রংপুরে পুলিশের রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) পুলিশ সুপার মেহেদুল ইসলাম তার স্ত্রী শিলা ইসলামসহ পরিবারের ছয় জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। তবে মনোবল না হারিয়ে এই পরিবারটি সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। নিজের বাসা থেকে ফেসবুক লাইভে এসে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী। করোনা আক্রান্ত পুলিশ সুপার দম্পতির সাহসিকতা ও ধৈর্য রংপুর তথা দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষের সাহস বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
রংপুর নগরীর শালবন এলাকার সন্তান মেহেদুল ইসলাম পিটার মাহিগঞ্জে অবস্থিত রেঞ্জ রির্জাভ ফোর্স (আরআরএফ) এর পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি তার পরিবার পরিজনসহ শালবনের বাসাতেই বাস করেন। কয়েকদিন আগে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর পর বৃহস্পতিবার তার স্ত্রী শিলা ইসলাম, মা, ছোট বোন, ভাগ্নে ও বাসার কাজের ছেলেরও নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে শুক্রবার বাসার সবার করোনা পজিটিভ বলে প্রতিবেদন আসে।
করোনা নিয়ে আতঙ্কে ভেঙে পড়েনি এই পরিবারটি। এই কর্মকর্তা জানান, তিনি করোনাকে জয় করার জন্য প্রথমে নিজের মাকে বোঝাতে চেষ্টা করেছেন। তিনি পরিবারের সব সদস্যকে বলছেন, মনে সাহস রেখে চললে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানলে ভালো থাকা যাবে। পরিবারের ছয় জনের কারোই করোনার কোনও উপসর্গ নেই।
মেহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘আমার মা করোনা আক্রান্ত হয়ে কেঁদেছেন। কিন্তু আমি তাকে সাহস দেওয়ায় তিনি ভালো আছেন।’ তিনি আরও জানান, তাদের কারও কোনও উপসর্গ নেই, তবে তার স্ত্রীর শরীর একটু গরম। এছাড়া আর কারও কোনও সমস্যা নেই। তবে একটা সমস্যা দেখা দিচ্ছে তা হলো গলার মধ্যে ব্যথার মতো অনুভূত হয়, তবে ব্যথার তীব্রতা নেই।
পুলিশ সুপার দম্পতি জানান, তারা সামাজিক দূরত্বসহ অন্যান্য নিয়ম কানুন মেনে বাসায় সবাই মিলে গল্প গুজব করছেন, হাসি ঠাট্টা করছেন।
পুলিশ সুপারের স্ত্রী শীলা ইসলাম জানান, ‘আমি করোনা পজিটিভ হয়েছি, কিন্তু আমি একটুও ঘাবড়াইনি। কারণ আমার স্বামী আমাদের জন্য স্ট্যামিনা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন আমাদের জন্য চিন্তা করবে না। আমি ও আমার শাশুড়িসহ সবাই আমার স্বামীর সাহসে বলিয়ান।’
পুলিশ সুপার করোনা আক্রান্তদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা সাহস হারাবেন না। পরিবারের বন্ডেজটা খুবই জরুরি। আমরা এই বার্তা দিচ্ছি, করোনাকে ভয় পাবেন না। একে জয় করতে হয়। আর মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে সারেন্ডার করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। তিনি অবশ্যই আমাদের সুস্থ করবেন। আমরা দম্পতি হিসেবে করোনা মোকাবিলায় সাহসের প্রতীক হতে চাই।’ তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।








