বিচারের নামে শিক্ষক, নারী ও শিশুকে পেটানোর দায়ে কুমিল্লার দেবিদ্বারের রাজামেহারের ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার (১০ মে) দেবিদ্বার সদরের নিউ মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দেবিদ্বার থানার এসআই মো. ইকতিয়ার এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দুটি মামলায় এজাহারনামীয় আসামি ওই চেয়ারম্যানকে উপজেলা সদরের নিউ মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলি আদালত-৪) আদালতে হাজির করা পর আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে, গত ৯ এপ্রিল পারিবারিক বিরোধ মেটানোর নামে ওই চেয়ারম্যান একই ইউনিয়নের বেতরা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক আজিজুর রহমানকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন। এই ঘটনায় ওই শিক্ষক বাদী হয়ে ১৬ এপ্রিল চেয়ারমানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। অপর ঘটনায় একই ইউনিয়নের উখারি গ্রামের মো. ওয়ালিউল্লাহর শিশু পুত্র শরীফ (১০) এবং স্ত্রী কাজল বেগমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বিচারের নামে মারধর করার ঘটনায় কাজল বেগম বাদী হয়ে ১৯ এপ্রিল চেয়ারম্যান ও তার ভাতিজা শামীমের বিরুদ্ধে থানায় পৃথক মামলা করেন। দুটি মামলায় প্রায় তিন সপ্তাহ আত্মগোপনে ছিলেন চেয়ারম্যান।
এছাড়াও ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিগত প্রায় ৯ বছরে এলাকার বিভিন্ন লোককে বিচারের নামে নির্যাতনসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ২০ এপ্রিল কুমিল্লা জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেন। এসব অভিযোগ বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক তদন্ত করছেন বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে চেয়ারম্যানের হাতে নির্যাতিত ও মামলার বাদী মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, মামলার পর থেকে থানা পুলিশ চেয়ারম্যানকে আটকের কোনও চেষ্টাই করেনি। দুটি মামলার আসামি হয়েও তিনি (চেয়ারম্যান) পরিষদের কাজ চালিয়ে গেছেন।








