পদ্মা সেতুর স্প্যান নির্মাণের মালামালের সর্বশেষ চালান নিয়ে একটি জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে চীনের শিনহোয়াংদাও বন্দর হতে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে চীনের প্রথম শ্রেণির জাহাজ এমভি কং সিউ সং বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়।
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের এই খবর নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, কসকো শিপিং লাইন সেতুর সর্বশেষ মালামাল পরিবহণের দায়িত্বে নিয়োজিত আছে। এই মালামাল বাংলাদেশে পৌঁছালে সেতুর সব মালামাল বাংলাদেশে আনা শেষ হবে। জাহাজে সেতুর ১৮০টি ট্রাস কম্পোনেন্টসহ ২ হাজার ৪১টি স্টিলের তৈরি বিভিন্ন মালামাল রয়েছে। জাহাজটি আগামী জুন মাসের ৭ তারিখ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। চট্টগাম বন্দরে কাস্টমস শুল্ক পরিশোধ ও ক্লিয়ারেন্সের পর মোংলা হয়ে ১৫ জুন এটি প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছাবে।
তিনি আরও জানান, এ মালামাল মার্চের মধ্যে বাংলাদেশে আনার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছিল। কিন্তু চীনের উহানে করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবের কারণে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে স্প্যানের মালামাল তৈরির কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এপ্রিলের শেষের দিক থেকে ফের কারখানা খুললে স্প্যানগুলোর কম্পোনেন্ট তৈরির কাজ শেষ হয়।
এদিকে, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৮৭ ভাগ, নদীশাসন কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭১ ভাগ এবং প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৭৯ ভাগ।
দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, ২৯টি স্প্যান বসানোর পর সেতুর ৪৩৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। আর মাত্র ১২টি স্প্যান স্থাপন করা বাকি। সেতুর ২৯৪ টি পাইল ও ৪২ টি পিয়ারের কাজ শেষ করা হয়েছে। সেতুর জন্য প্রয়োজন ৪১টি স্প্যান। তার মধ্যে মাওয়ায় এসেছে ৩৯টি। যার মধ্যে ২৯ টি স্থাপন করা হয়েছে এবং ১০ টি স্প্যানের জন্য মাওয়ার কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ওয়েল্ডিং, অ্যাসেম্বলিং ও পেইন্টিং এর কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, সাধারণত পদ্মায় প্রতিবছর বর্ষাকালে উজান থেকে প্রায় দুই বিলিয়ন টন পলি এসে মূল সেতুর ১৭ নম্বর পিয়ার থেকে ৩৮ নম্বর পিয়ার পর্যন্ত খননকৃত চ্যানেল বন্ধ করে দেয়। পরবর্তী শুষ্ক মৌসুমে সেতুর জাজিরা প্রান্তে ড্রেজিং জটিলতা এড়ানোর জন্য পরবর্তী স্প্যান দুটি যত দ্রুত সম্ভব এই মৌসুমেই পিয়ার ২৫-২৬-২৭ এর ওপর স্থাপন করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূলসেতু নির্মাণের কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে চীনের আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।
ছবি: জাহাজ রওনা হওয়ার সময়কার ছবিগুলো দেওয়ান মো. আব্দুল কাদেরের কাছ থেকে সংগৃহীত।








