শেরপুরে ভার্চুয়াল আদালতের তৃতীয় দিনে জামিন পেয়েছেন আরও ৫৩ জন হাজতি আসামি। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জেলা ও দায়রা জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ শিশু আদালত এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসহ আমলি আদালতগুলোতে করা ৭১টি আবেদন শুনানি শেষে ওই ৫৩ জনের জামিন মেলে। এরমধ্যে রয়েছে কারাগারে সন্তান প্রসব করা এক নারী এবং গাজীপুর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা এক কিশোর। এ নিয়ে ৩ দিনে জেলায় জামিন পেলেন ৮৭ জন আসামি।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৫টি আবেদনের শুনানি শেষে ৪টি আবেদন মঞ্জুর করেন জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আল মামুন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ শিশু আদালতে করা ৮টি আবেদনের মধ্যে ৭টি আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। আর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা ৩টি আবেদনের মধ্যে ৩টিই মঞ্জুর করেন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম হুমায়ুন কবীর। এছাড়া জেলার ৫টি জিআর আমলি আদালতের মধ্যে নালিতাবাড়ী আমলি আদালতের ৩টি আবেদনের মধ্যে ২টি মঞ্জুর করেন অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুলতান মাহমুদ। আর শেরপুর সদরে রেকর্ডসংখ্যক ৩৫টি আবেদনের মধ্যে ১৮টি আবেদন মঞ্জুর করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারিন ফারজানা। এতে ওই আদালতে জামিন মেলে ২২ জন আসামির। শ্রীবরদী আমলী আদালতে করা ৭টি আবেদনের মধ্যে ৬টি আবেদন মঞ্জুর করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আল মামুন। ঝিনাইগাতীর ৭টি আবেদনের মধ্যে ৬টি মঞ্জুর করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলাম খান। নকলার ৩টি আবেদনের মধ্যে ২টি মঞ্জুর করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহসিনা হোসেন তুষি। এছাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ এর বিচারিক আদালতে করা একটি আবেদন মঞ্জুর করেছেন ভারপ্রাপ্ত বিচারক মুহসিনা হোসেন তুষি। এতে প্রায় ৫ মাস পর জামিন পেয়েছেন কারাগারের সন্তান প্রসব করা এক নারী। এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে জেলায় সব আদালত মিলে আরও জামিন পায় ৩৪ জন আসামি।
এদিকে জেলা ও দায়রা জজ, নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও অধঃস্তন আদালতগুলোতে আরও অন্তত ৫০টি আবেদন পেন্ডিং রয়েছে। ওইসব আবেদনের প্রায় সবগুলোই রবিবার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ মে নিম্ন আদালতের ভার্চুয়াল কোর্টে শুধু জামিন শুনানি করতে নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এরপর ১১ মে থেকে সারাদেশে ওই শুনানির সুযোগ নিশ্চিত হলেও শেরপুরে তা শুরু হয় ১২ মে থেকে। ওইদিন নবাগত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম হুমায়ুন কবীর ২টি আবেদন গ্রহণ করে ২টিই নিস্পত্তি করায় জেলায় ভার্চুয়াল আদালতে প্রথম জামিন মেলে ২ জন আসামির।








