বগুড়ায় একটি ময়দা মিলের বিশ্রামঘর থেকে মিলের জেনারেল ম্যানেজারের লাশ উদ্ধার হয়েছে। তার নাম মোস্তফা আল মামুন (৫৫)। রহস্যজনকভাবে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গামছা দিয়ে গলা বাঁধা ছিল তার, তবে পা মেঝেতেই ছিল। সন্ধ্যায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের স্বজনরা দাবি করছেন, মামুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বগুড়া শহরের চেলোপাড়ায় সোনালী ফ্লাওয়ার মিলে এ ঘটনা ঘটে।
সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা মনে হচ্ছে; ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
পুলিশ ও এলাকাবাসীরা জানান, শহরের চেলোপাড়া এলাকায় বিজয় কুমার বিহানী বিজয়ের সোনালী ফ্লাওয়ার মিলে ২০ বছর ধরে চাকরি করেন মোস্তফা আল মামুন। সর্বশেষ জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। শহরের নারুলী পশ্চিমপাড়ার তার বাড়ি হলেও ওই মিলের পাশেই পরিবার নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকেন।
মিলের হিসাব রক্ষক শুভ রায় জানান, মিলের দোতলায় একটি কক্ষে জেনারেল ম্যানেজার মোস্তফা আল মামুন, তিনি ও অপর হিসাব রক্ষক সোহরাব হাবিব বাবু বসেন। প্রতিদিন দুপুরে খাবার পর মামুন পাশের রুমে বিশ্রাম করেন। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি (শুভ) ও বাবু বাড়িতে খেতে যান। ফিরে এসে দেখেন ম্যানেজার মামুন টেবিলে নেই। তখন তারা ধারণা করেন, তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন। আসর নামাজের সময়ও তিনি রুম থেকে বের না হওয়ায় তাদের সন্দেহ হয়। বাইরে গিয়ে দেখেন, ওই রুমের জানালার গ্রিলের সঙ্গে গামছা দিয়ে তার গলায় ফাঁস দেওয়া। তবে পা মাটির সঙ্গে ছিল। খবর পেয়ে তার স্ত্রী রোজিনা ও ভাই মোস্তফা আল তাহরিন সেখানে এসে গামছা কেটে লাশ শুইয়ে দেন। এ সময় নিহতের স্ত্রী বলতে থাকেন, ‘ওরা আমাকেও মেরে ফেলবে।’
তাহরিন দাবি করেন, তার ভাই মামুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে হত্যা মামলা করবেন।
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, গ্রিলের সঙ্গে গলায় গামছা দিয়ে ফাঁস দেওয়া ও পা মেঝেতে থাকলেও এটা আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস ও পা মাটিতে থাকলেই সেটাকে হত্যা বলা যায় না। তারপরও জেনারেল ম্যানেজার মামুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যা পাওয়া গেলে হত্যা মামলা হবে।








