সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান খানকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্ত। রবিবার (২৮ জুন) সকালে রায়গঞ্জের চান্দাইকোনায় নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে পরিকল্পিত এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘটনা ঘটিয়ে চলে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হান্নানকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল স্থানান্তর করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস জানান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার সকালে চান্দাইকোনা বাজারে প্রতিদিনের মতো চা-নাশতা খেয়ে বাড়ি ফিরে যান হান্নান খান। মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্ত আগে থেকেই তার ওপর নজর রাখছিল। তিনি বাড়িতে ঢুকতেই হঠাৎ মুখোশধারীরা তার পেছনে পেছনে ঢুকে যায়। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তারা ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর উপর্যুপরি হামলা চালায়। এ সময় তার স্ত্রী দেখে চিৎকার শুরু করলে মুখোশধারীরা সটকে পড়ে। লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ হামলার ঘটনার পর জেলার বিভিন্ন সরকারি তদন্ত সংস্থা মাঠে নেমেছে।
রায়গঞ্জ থানার ওসি শহীদুল ইসলাম বিকালে জানান, ‘হামলায় কারণ জানা যায়নি। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আমি তাকে দেখতে বগুড়ায় গিয়েছিলাম। তার স্ত্রী, পরিবারের সদস্যরা মুখোশধারী কাউকে চিনতে পারেনি। বর্তমানে তিনি কথা বলতে পারলেও বেশ কষ্ট হচ্ছে। এজন্য তাকে জোর দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেও পারছি না।’
এদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস দুপুরের পর বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে রওনা দিয়েছেন। পথে তিনি এ প্রতিনিধিকে ফোনে জানান, প্রকাশ্যে দিনদুপুরে একজন আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধির বাড়িতে ঢুকে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করার বিষয়টি সত্যিই গভীর উদ্বেগের।
জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনের এমপি প্রফেসর ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না এমপি এ ঘটনার তীব্র নিন্দাসহ মুখোশধারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।








