ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে করোনা পরিস্থিতিতে ঋণ পরিশোধে গ্রাহকদের চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিজয়নগরে ঋণ পরিশোধ করতে খেলাপি গ্রাহকদের নোটিশ প্রদান করেছে। অথচ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায়ে স্থগিতাদেশ দিয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে কোনও ঋণগ্রহীতার থেকে কিস্তি বা বকেয়া পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া যাবে না।
গ্রাহকরা জানান, বিজয়নগর উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক থেকে উপজেলার কয়েকজন গ্রাহককে ঋণ পরিশোধের জন্য খেলাপি উল্লেখ করে ‘হলুদ কাগজে’ চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ জুন বিজয়নগর উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা ব্যাবস্থাপক রণন প্রতিম ভাওয়াল স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত নোটিশ গ্রাহকদের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছানো হয়েছে। নোটিশে গ্রাহকদের ঋণ খেলাপি হয়েছে মর্মে নোটিশ প্রাপ্তির পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করার জন্য বলা হয়। এছাড়াও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না করলে গ্রাহকের বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশ পেয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রাহক বলেন, সরকার যেখানে করোনা মহামারির সময় মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা করছে, সেখানে সরকার কর্তৃক পরিচালিত অফিস থেকে বকেয়া পরিশোধের জন্য গ্রাহকদের কেন চাপ দেওয়া হচ্ছে বুঝতে পারছি না।
তারা আরও বলেন, করোনার কারনে কর্মহীন হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে আছি। এর মধ্যে এই নোটিশ পেয়ে আমরা চিন্তায় পড়েছি। কী করবো বুঝতে পারছি না।
এ বিষয়ে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, বিজয়নগর উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপক রণন প্রতীম ভাওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, আমি নোটিশে স্বাক্ষর করেছি। যারা মাঠ পর্যায়ে সমন্বয় করেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তারা ভালো বলতে পারবেন। আমার বক্তব্য নিতে হলে রবিবার (৫ জুলাই) অফিসে টাইমে দেখা করেন, বলে ফোন কেটে দেন তিনি।
এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, কেউ অভিযোগও করেননি। আপনার (সাংবাদিক) মাধ্যমে জানতে পেরেছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ডেকে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করা হবে।








