হিলিতে অনলাইনে কোরবানি পশুর হাট চালু, খুশি খামারি ও স্থানীয়রা

হিলি প্রতিনিধি
১৯ জুলাই ২০২০, ২০:২৬আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২০, ২০:৩৭

হাকিমপুর প্রাণীসম্পদ অফিসের কোরবানির পশুহাট নিয়ে ফেসবুক পেজ

আর সপ্তাহ দুয়েক পরেই মুসলমান সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদ হিসেবে পরিচিত এই ঈদের মূল উদ্দেশ্য থাকে পশু কোরবানি দিয়ে স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জন। তবে বিশ্বজুড়ে মহামারি হিসেবে দেখা দেওয়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে এবার পশুর হাটে গিযে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা কঠিন হবে সেটা সবমহলেই অনুমেয়। এ কারণে এবার ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল নেওয়ার ব্যাপারে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার। কোরবানিদাতাকে লোক লস্কর নিয়ে হাটে গিয়ে পশু না কিনে অনলাইনে গরুর সব বৃত্তান্ত হাটের মতোই জেনে নিয়ে কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা উপজেলার প্রাণীসম্পদ অফিসগুলো এ বিষয়ে খামারিদের সহযোগিতা করছে। দিনাজপুরের হিলির হাকিমপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসও এক্ষেত্রে এগিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের সহায়তা নিয়ে এরইমধ্যে অনলাইনে কোরবানির পশুহাট চালু করেছে তারা। স্থানীয় লোকজনের মধ্যে এই উদ্যোগে সাড়াও পড়েছে বেশ।

হিলির অনলাইন পশুহাটে নিবন্ধিত গরু

হাকিমপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘অনলাইন কোরবানি পশুহাট হাকিমপুর’ নামে একটি পেজ খোলা হয়েছে। এই পেজে উপজেলার বিভিন্ন খামারিদের এবারে কুরবানির জন্য প্রস্তুতকৃত গরু, ছাগল, ভেড়ার ছবি, দাম ও খামারিদের মোবাইল নম্বর পোস্ট করা হচ্ছে। এরসঙ্গে উপজেলার গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে যুক্ত করা হয়েছে। এতে করে এই পেজের প্রচার বাড়ছে। এরইমধ্যে ক্রেতারা সরাসরি খামারিদের সঙ্গে কথা বলে দরদাম করে পশু কিনতে পারছেন। এপর্যন্ত এই পেজের মাধ্যমে ১১টি কুরবানির পশু বিক্রি হয়েছে এতে করে ন্যায্যমূল্য পেয়ে খুশি খামারিরা।

হাকিমপুরের অনলাইন পশুহাট পেজে ব্যাপক সাড়া মিলছে ক্রেতা ও খামারিদের কাছ থেকে

হিলির সাতকুড়ি গ্রামের খামারি আলী হোসেন ও ইয়াকুব আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আমরা কোরবানি উপলক্ষে পশু লালন পালন করে বিক্রি করে আসছিলাম। তাতে বেশ লাভবানও হয়েছিলাম। বরাবরের মতো এবারেও বাড়তি লাভের আশায় অনেকের কাছে ধার নিয়ে খানিকটা বেশি করে গরু, ছাগল পালন করেছি। ঈদে এসব গরু ছাগল বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করার পাশাপাশি কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারবো বলে আশায় ছিলাম। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে উপজেলার বাইরের পাইকার না আসায় ও  ঠিকমতো হাট না লাগার কারণে আমাদের এসব পশু বিক্রি করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলাম। তবে সম্প্রতি আমাদের এসব পশু বিক্রির কথা চিন্তা করে উপজেলা প্রানিসম্পদ অফিস অনলাইন কুরবানি পশুহাট চালু করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কুরবানি উপলক্ষে বিক্রয়ের জন্য আমাদের প্রস্তুত করা করা পশুর ছবি, খামারির নাম, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার দিয়ে দিচ্ছে। ক্রেতারা মোবাইল করে আমাদের সাথে কথা বলে পশুর দরদাম করে বাড়ি থেকে এসে পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে আমাদের আর খরচ করে হাটে পশু নিয়ে যেতে হচ্ছে না। ইতোমধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে আমরা দুটি গরু ও দুটি ছাগল বিক্রি করেছি। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা যদি আমাদের সবগুলো পশু এভাবে বিক্রি করতে পারি তাহলে আমরা বেশ লাভবান হতে পারবো।

হাকিমপুরের অনলাইন পশুহাটে বিক্রির জন্য নিবন্ধিত পশু

অনলাইন পশুহাট থেকে ছাগল ও গরু কেনা নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, করোনাভাইরাসের কারণে বাড়ির  বাইরে বের হওয়া নিরাপদ নয় জানলেও জীবিকা ও প্রয়োজনের তাগিদে বের হতে হচ্ছে। তবে বাড়ির বাইরে বের হওয়ার সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুখে মাস্ক পরে চলাচল করছি। কিন্তু অনেকেই কোনও মাস্ক না পরে চলাফেরা করছেন। এতে করে বাড়ির বাইরে বের হওয়া বেশ ঝুঁকি বলেই মনে হচ্ছে। কোরবানির পশুহাটে এই সংক্রমণ আরও বেশি হতে পারে বলে ভয় আছে। তাই হিলিতে অনলাইনে কোরবানির পশুহাট চালু করায় সেখান থেকে কোরবানির জন্য পশু কিনে এনেছি। 

  হাকিমপুরের অনলাইন পশুহাটে ওঠানো ছাগলও বিক্রি হচ্ছে বেশ

হাকিমপুর উপজেলা ভেটিরিনারি সার্জন ডা. রতন কুমার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আমার খামারিদের জন্য যে অনলাইন হাট চালু করেছি সেটাতে ভালো সাড়া পাচ্ছি। কেউ যাতে আর্থিক লেনদেন কিংবা অন্য দিকে প্রতারিত না হয় সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। এর ফলে খামারিদের পশু বিক্রি করতে খরচ কম লাগবে এবং তারা কিছুটা হলেও লাভবান হবেন। এই পেজের মাধ্যমে এপর্যন্ত ৪টি ছাগল ও ৭টি গরু মিলিয়ে মোট ১১টি পশু বিক্রি হয়েছে। আশা করছি আগামী কিছুদিনের মধ্যে বিক্রির হার আরও বাড়বে।

হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.আব্দুস সামাদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, কোরবানি উপলক্ষে দিনাজপুর জেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী হাকিমপুর উপজেলাতেও খামারিরা গবাদিপশু মোটাতাজা করেছেন। নিবিড় তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে আমরা তাদের এই কার্যক্রম তদারকি করছি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু ছাগল মোটাতাজা করা হচ্ছে। আমাদের খানা জরিপে এবারে কোরবানির চাহিদা রয়েছে ৬ হাজার ৬৫০টি পশুর। এর বিপরীতে ৯হাজার ১৮৮টি পশুর জোগান রয়েছে। ফলে  চাহিদার তুলনায় বেশি থাকবে ২ হাজার ৫৩৮টি পশু। তবে করোনাকালীন সময়ে খামারিদের সবচেয়ে বেশি সমস্যা মার্কেটিং বা বিপণন। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কোরবানির পশু হাটে যাতে না যেতে হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা আমাদের দফতর থেকে একটি গ্রুপ পেজ খুলেছি। এতে খামারিদের বিক্রয়যোগ্য পশুর ছবি, ওজন অনুযায়ী মূল্য ও খামারিদের মোবাইল নাম্বার আপলোড করা হচ্ছে। ক্রেতারা সংশ্লিষ্ট খামারিদের সঙ্গে কথা বলে বাড়িতে বসেই কোরবানির পশুটি ক্রয় করতে পারবেন। এতে করে আমরা মনে করি ক্রেতা-বিক্রেতা ঘরে বসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের পছন্দের পশুটি ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন। একইসঙ্গে খামারি ও ক্রেতা দুজনেই লাভবান হবেন। এই কার্যক্রম চালুর পর থেকে স্থানীয়দের মাঝ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি আমরা। 

/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম