গাজীপুরে গোসল করতে গিয়ে তুরাগ নদীতে নিখোঁজ হওয়ার দু’দিন পর মঙ্গলবার স্কুলছাত্র শাকিব হোসেনের (১৩) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে ওই ঘটনায় নিখোঁজ দু’ছাত্রেরই লাশ উদ্ধার হয়েছে। এদিকে কালিয়াকৈরে একই নদীতে নিখোঁজ ৩ বছরের শিশুর সন্ধান ২৪ ঘণ্টায়ও মেলেনি।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন (জিএমপি’র) বাসন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল আমিন জানান, গত রবিবার দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে তুরাগ নদীতে গোসল করতে গিয়ে স্রোতের তোড়ে ভেসে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয় দু’কিশোর দুর্জয় নাথ মোহন্ত (১৪) ও শাকিব হোসেন (১৩)। নিখোঁজ হওয়ার দু’দিন পর মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভাটিতে ইসলামপুর এলাকার ভুইয়া গার্মেন্টসের পাশে নদীতে শাকিবের লাশ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নদী থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে।
শাকিব জামালপুরের বকশীগঞ্জ থানার খামারগেদরা গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে।
এর আগে সোমবার দুপুরে ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার ভাটিতে তুরাগ নদীর ইসলামপুর ইটভাটা এলাকা হতে নিখোঁজ অপর কিশোর দুর্জয়ের (১৪) লাশ উদ্ধার করা হয়।
দুর্জয় গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর থানার ইছামত তাজপুর গ্রামের রবীন্দ্র নাথ মোহন্তের ছেলে।
তারা দু’জনই গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নাওজোড় পাথরপাড়া এলাকার প্রগতি মডেল স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টান কড্ডা এলাকায় রবীন্দ্র নাথ ও নাওজোর এলাকায় আবু সাঈদ সপরিবারে বাস করেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন (জিএমপি’র) বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, গত রবিবার দুপুরে ৬ কিশোর বন্ধু গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টান কড্ডা ব্রিজ এলাকায় তুরাগ নদীতে গোসল করতে যায়। এসময় তারা একটি মাত্র রাবারের টিউব নিয়ে নদীতে নেমে সাঁতরাতে থাকে। হঠাৎ তীব্র স্রোতে টিউবটি উল্টে গেলে শাকিব ও দুর্জয় টিউব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। এসময় অন্য ৪ জন টিউব নিয়ে সাঁতরে তীরে উঠে আসে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে নিখোঁজদের সন্ধান করতে থাকে। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে নিখোঁজ দু’জনেরই লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে, ফায়ার সার্ভিসের গাজীপুর জোন-৩ এর উপসহকারী পরিচালক আব্দুল আলীম জানান, সোমবার সকালে কালিয়াকৈরের চাপাইর ব্রিজ এলাকায় স্থানীয় হিরু মিয়ার তিন বছরের শিশু আব্দুর রহিম বাড়ির পাশে তুরাগ নদীর পাড়ে খেলা করছিল। এসময় সে নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়। শিশুটির স্যান্ডেল নদীর পাড় থেকে পাওয়া যায়।
স্বজনদের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির খোঁজে নদীতে তল্লাশি শুরু করে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত নিখোঁজ শিশুটির হদিস পাওয়া যায়নি।








