গাজীপুরে অগ্রিম বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ, ঈদের ছুটি বৃদ্ধি এবং বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে এক পোশাক কারখানার শ্রমিকরা শনিবার (২৫ জুলাই) বিক্ষোভ করেছে। তারা মহাসড়ক অবরোধ ও গাড়ি ভাঙচুর করে। বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় এএসপি ও ইন্সপেক্টরসহ শিল্প পুলিশের অন্তত সাত সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শটগানের গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ছুড়ে।
এদিকে অপর এক কারখানায় শ্রমিকরা কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও এক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করেছেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর ইসলাম হোসেন ও শ্রমিকেরা জানান, সিটি করপোরেশনের সাতাইশ এলাকার ভিয়েলা টেক্স পোশাক কারখানার শ্রমিকরা গত কয়েকদিন ধরে কর্তৃপক্ষের কাছে ঈদ বোনাস, বাৎসরিক ছুটির টাকা ও চলতি জুলাইয়ের পুরো মাসের বেতন সোমবারের মধ্যে (২৬ জুলাই) পরিশোধ এবং ঈদ উপলক্ষে ১২ দিন ছুটি দেওয়ার দাবি জানান। এসব দাবিতে শ্রমিকরা গত বৃহস্পতিবার কারখানায় কর্মবিরতি, বিক্ষোভ করেন।
শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে কারখানা কর্তৃপক্ষ ঈদের ছুটি ৮ দিন (৩১ জুলাই হতে ৭ আগস্ট) এবং ঈদ বোনাস ও আগামী ৩০ জুলাই চলতি মাসের ১৫ দিনের বেতন দেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে কর্তৃপক্ষের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে। তারা কয়েকজন কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করে ও ভাঙচুর চালান। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শ্রমিক অসন্তোষের মুখে পরে কর্তৃপক্ষ কারখানা ছুটি ঘোষণা করে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) সিদ্দিকুর রহমান জানান, শ্রমিকদের মহাসড়কের ওপর থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা ইট-০পাথর ছুড়তে থাকে। এতে শিল্প পুলিশের টঙ্গী জোনের এএসপি শামসুল আলম ও ইন্সপেক্টর রেজ্জাকুল হায়দারসহ পুলিশের অন্তত সাত সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ৪১ রাউন্ড শটগানের গুলি, সাতটি সাউন্ড গ্রেনেড ও ৪১ রাউন্ড টিয়ার শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে একাধিক শ্রমিকের দাবি পুলিশ বিনা উস্কানিতেহামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১২ শ্রমিক ও পথচারী আহত হয়েছেন।
এদিকে, গাজীপুরের অপর এক কারখানায় বকেয়াসহ দেড়শ’ ভাগ ঈদ বোনাস ও বাৎসরিক ছুটির দাবিতে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছেন শ্রমিকরা। এসময় শ্রমিকদের মারধরে কারখানার উপ-ব্যবস্থাপক আহত হন।
কারখানার উপ-ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান জানান, শ্রমিকদের কোন বকেয়া পাওনা নেই। তাদের সব পাওনাদি নির্ধারিত সময়েই পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী গত ঈদুল ফিতরের ৫০ ভাগ বোনাস শ্রমিকদের পরিশোধ করা হয়েছে। অথচ শ্রমিকরা কয়েকদিন ধরে কর্তৃপক্ষের কাছে গত ঈদুল ফিতরের অবশিষ্ট ৫০ ভাগ ও আসন্ন ঈদুল আজহার শতভাগসহ মোট দেড়শ’ ভাগ ঈদ বোনাস এবং বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবি জানিয়ে আসছিলো।
শিল্প পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত দেব জানান, শনিবার সকালে কারখানায় কারখানায় এসে জড়ো হয়। তারা কারখানায় প্রবেশ করে মেইনগেট তালাবদ্ধ করে দেয়। এসময় তারা দেড়শ’ ভাগ ঈদ বোনাস ও বাৎসরিক ছুটির টাকা পরিশোধের দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করে এবং কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে তারা কারখানার উপ-ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমানকে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও গেট তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। একপর্যায়ে পুলিশ কৌশলে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়। বৈঠকে কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। পরে শ্রমিকরা আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করে কাজে যোগ দেন।







