ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের টাকা পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
২৭ জুলাই ২০২০, ২০:৫৭আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২০, ২০:৫৭

বাঁধ নির্মাণের বিল পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের চূড়ান্ত বিল পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলার সবকটি উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্য ও সভাপতি, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন। সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী জেলার ছোট-বড় ৫২টি হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। হাওরপাড়ের কৃষক ও সুবিধাভোগী জনগণের অংশগ্রহণে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রশাসনের তদারকিতে নির্মাণ করা হয় এই বাঁধ। কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজের শুরুতে অগ্রিম বিল দেওয়ার কথা থাকলেও কাজ বাস্তবায়নের সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি বিল পায়নি। ধারদেনা, জমি-সম্পত্তি বন্ধক রেখে টাকা সংগ্রহ করে বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করেছে। মার্চ মাসের ২০ তারিখে নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত পিআইসিগুলোকে চূড়ান্ত কাজের বিল দেওয়া হয়নি। চূড়ান্ত বিল না পাওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘আমরা হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ করার জন্য দিনরাত বাঁধে পড়ে থেকে কাজ সম্পন্ন করেছি। আজ বিলের জন্য আমাদের মানববন্ধন করতে হচ্ছে। আজকে চূড়ান্ত বিলের টাকা না পাওয়ায় শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারছি না। পিআইসির সদস্যরা অনেকে ঋণ করে সুদে টাকা এনে বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করেছেন। তাদের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না পারলেও আরও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হবে।’

মানববন্ধনে জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, সদর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লা, দোয়ারাবাজারসহ সবকটি উপজেলার দুই শতাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড শনির হাওর, মহালিয়ার হাওর, পাগনার হাওর, মাতিয়ান হাওর, হালির হাওর, গুরমার হাওর, সোনামোড়ল হাওর, ধানকুনিয়ার হাওর, বরাম হাওর, কালিয়াকোটা হাওর, ছায়ার হাওরসহ ছোট-বড় ৫২টি হাওরে ৭৪৫টি প্রকল্প বাস্তবান কমিটির মাধ্যমে ৬৩৬ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ ও ১৩৯টি ক্লোজার নির্মাণ করা হয়। এজন্য ১৩২ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে পিআইসির অনুকূলে ৮২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ছাড় দেওয়া হয়। জেলায় মোট ১৬৮০ কিলোমিটার ডুবন্ত বেরিবাধ রয়েছে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পিআইসির সদস্য রফিকুল বারী চৌধুরী বাচ্চু, সালাহ উদ্দিন মাহতাব, সেলিম রেজা, বিপ্লব কান্তি সরকারসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারিরা। এখন পর্যন্ত তারা ২০ কোটি টাকার চূড়ান্ত বিল পাবেন বলে দাবি করেন।  চলতি বছরে জেলায় দুই লাখ ২০ হাজার ৪৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। ৭ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৬ মেট্রিকটন চাল উৎপাদিত হয়েছে।  

/এমএএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বাবা-মেয়েসহ ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত
বাবা-মেয়েসহ ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের