বিক্রি হয়নি ‘সোনা বাবু’। এবার কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল প্রায় ৩৫ মণ ওজনের ফিজিএম প্রজাতির ষাঁড়টিকে। কিন্তু সড়ক ও বাড়ির উঠানে বন্যার পানি উঠে যাওয়ায় গরুটিকে হাটে তুলতে পারেননি এর মালিক গৃহবধূ জয়নব বেগম। ষাঁড়টি বিক্রি করতে না পারায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। এখনও যদি কোনও ক্রেতা কিনতে চান তাহলে আগের দামের অর্ধেকে গরুটি বিক্রি করতে রাজি আছেন জয়নব। এমনকি গরু ক্রেতার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার খরচও বহন করবেন তিনি।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ফাজিলহাটি বটতলা গ্রামে প্রবাসী কামরুল ইসলামের স্ত্রী জয়নব বেগম। তার খামারেই জন্মের পর থেকে লালন পালন করে ষাঁড়টি বড় করে তুলেছেন তিনি।
জয়নবের এই ষাঁড়টি নিয়ে গত বাংলা ট্রিবিউনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় শিরোনামে। সেসময় জয়নব জানিয়েছিলেন, তার খামারেই এই বাছুরটির জন্ম। সাড়ে তিন বছর ধরে লালন পালনের পর এটি ষাঁড়ে পরিণত হয়েছে। শান্ত প্রকৃতির বলে ওর নাম রেখেছেন তিনি ‘সোনা বাবু’। বর্তমানে এটি সাড়ে ৯ ফুট লম্বা ও সাড়ে ৫ ফুট উঁচু, ওজন হয়েছে প্রায় ৩৫ মণ। কোনও প্রকার ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ ছাড়াই দেশীয় খাবার খাইয়ে ষাঁড়টিকে লালন-পালন করা হচ্ছে।
বাংলা ট্রিবিউনকে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জয়নব বেগম জানান, এবার কোরবানির ঈদে গরুটি বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু, সড়ক ও বাড়ির উঠান বন্যার পানিতে ভরে যাওয়ায় ‘সেনা বাবু’কে হাটে তোলেননি তিনি।
জয়নব বেগম বলেন, ‘খুব আশা ছিল ষাঁড়টি এবার বিক্রি করবো। কিন্তু সেটি আর হলো না। আমার স্বামী বিদেশ থাকে। এখন আমি একা গরুটি লালন-পালন করছি। মাঝে মধ্যে এ কাজে সহযোগিতা করেন শ্বশুর-শাশুড়ি। এত বড় গরু লালন-পালন করতে আমার খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভেবেছিলাম গরুটি ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করবো। কিন্তু করোনা ও বন্যার পানির কারণে এখন অনেক মানুষ সমস্যায় রয়েছে। মানুষের হাতেও তেমন টাকা নেই। এখন যদি ঈদের আগে মানে শুক্রবারের মধ্যে কেউ গরুটি কিনতে চায় তাহলে সাত লাখ টাকায় বিক্রি করবো। কেউ কিনলে তার বাড়িতে গরুটি পৌঁছে দেওয়া হবে।’








