চট্টগ্রামে এক মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন না করার পর এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে চট্টগ্রাম মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কাউন্সিল। সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এই মানববন্ধনে হামলা করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের লোকজন এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমেদসহ ১০-১৫ জন আহত হয়েছেন।
সম্প্রতি বাঁশখালীতে মারা যান ডা. আলী আশরাফ। তিনি ছিলেন শেখেরখীল ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার এবং বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী শহীদ মৌলভী সৈয়দের বড় ভাই। মৃত্যুকালে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় সম্মান পাননি বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফ। গার্ড অব অনার ছাড়াই সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল এলাকায় নিজ বাড়ির কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে মুক্তিযোদ্ধা আলী আশরাফের ছেলে জহির উদ্দিন বাবর বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার চেয়ে আমার পরিবারের সদস্য জীবন দিয়েছে। আজকে কুলাঙ্গাররা হত্যার উদ্দেশ্যে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমাকে ও বাঁশখালী উপজেলা কমান্ডারসহ অনেককে আহত করেছে।’
জানা গেছে, মৌলভী সৈয়দের পরিবার এ জন্য বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানকে দায়ী করেন। তাদের দাবি, সংসদ সদস্য নিষেধ করায় উপজেলা প্রশাসন সম্মাননা দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাঁশখালীতে এক অনুষ্ঠানে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাঁশখালীতে কোনও মুক্তিযোদ্ধা নেই।’ তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, চট্টগ্রাম সোমবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে মানববন্ধনের আয়োজন করে। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে মানববন্ধন শুরুর ১০ মিনিট পর সংসদ সদস্যের লোকজন এসে মানববন্ধনকারীদের ওপর হামলা চালায়। বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র সেলিমুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি গ্রুপ হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
সাফায়েত হোসেন খান নামে এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলেন, ‘বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে চট্টগ্রাম মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এ মানববন্ধন ও মৌন প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। এ সমাবেশে ৫০-৬০ জন লোক মিছিলসহ বাঁশ, লাঠি, ছুরি নিয়ে অকথ্য গালিগালাজ করে অতর্কিত হামলা করে।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কোতয়ালি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবসার জানান, এ ঘটনায় পুলিশ দুই জনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: অন্তিম যাত্রায় গার্ড অব অনার পেলেন না মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফ!








