‘সুন্দরবনে জোয়ার হয় সর্বোচ্চ ২.৮ মিটার উচ্চতায়, প্রাণীরা তখন যায় নিরাপদ স্থানে’

খুলনা প্রতিনিধি
২৭ আগস্ট ২০২০, ২১:২৩আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২০, ২১:৪০

সুন্দরবনের ভেতর জোয়ারের পানিতে একটু আশ্রয় পেয়ে ভাসছে দুটো কাঁকড়াভ (সংগৃহীত ছবি)

সুন্দরবন জোয়ার ভাটার ওপরই বেঁচে আছে। জোয়ারে ডুববে, আর ভাটায় জাগবে এটাই সুন্দরবনের প্রাণ ও সৌন্দর্য। এটা প্রাকৃতিক নিয়মেই হচ্ছে। আর আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে এখানে জোয়ারের সর্বোচ্চ সীমা থাকে। আগস্টে ২ দশমিক ৬ মিটার, সেপ্টেম্বরে ২ দশমিক ৭ মিটার এবং অক্টোবরে ২ দশমিক ৮ মিটার জোয়ার হয়। সুদীর্ঘকাল ধরেই এভাবে চলে আসছে।

তথ্যসহ এমন মন্তব্য করেছেন সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশিরুল আল মামুন।

তিনি বলেন, জোয়ার ভাটার সুন্দরবনে এ পর্যন্ত জোয়ারের পানিতে কোনও বন্য প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার রেকর্ড নেই। চলতি প্রক্রিয়ার মধ্যেও এ ধরনের কোনও তথ্য নেই। এটা নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া এটি। বন্য প্রাণীরাও এ বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত। সুন্দরবনের গহীনের অনেক স্থানে উঁচু জায়গা করা আছে। সেখানেই বন্য প্রাণীরা অবস্থান নেয়। জোয়ারের পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বন্য প্রাণীরা নিরাপদ স্থানে চলে যায়। আবার ভাটা শুরু হলে নেমে আসে। এটাও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।

সম্প্রতি একাধিক গণমাধ্যমে সুন্দরবনে জোয়ারের পানিতে বিভিন্ন প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত ও ভেসে যাওয়ার সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে জানতে চাইলে এ মন্তব্য করেন তিনি।

জোয়ারে ডুববে আর ভাঁটায় ভেসে উঠবে এটাই সুন্দরবনের নিয়তি। পুরো বিষয়টাই ম্যানগ্রোভ বনের জন্য প্রাকৃতিক।

এদিকে, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে করমজল প্রজনন কেন্দ্র তলিয়ে গেলেও কোনও বন্য প্রাণীর ক্ষয়-ক্ষতি নেই। পাশাপাশি জোয়ারের পানিতে সুন্দরবনও তলিয়ে যায়। আবার ভাটায় নেমে আসে। জোয়ারের পানির এ চাপ বন্য প্রাণীদের জন্য প্রাকৃতিকভাবেই সহনশীল। জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপের সময় বন্য প্রাণীরা বনের গহীনে ও বন বিভাগের অফিসের আশপাশে রাখা উঁচু জায়গায় অবস্থান নেয়। আবার ভাটার সময় পানি নেমে পরিবেশ স্বাভাবিক হয়। এখন পর্যন্ত জোয়ারের পানির চাপে কোনও ধরনের বন্যপ্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

সুন্দরবন জোয়ারের পানিতে প্লবিত থাকে নিত্যদিন। জুলাই থেকে অক্টোবরে বর্ষা, বন্যা ইত্যাদি কারণে জোয়ারের উচ্চতা বাড়ে। (সংগৃহীত ছবি)

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে পশ্চিম সুন্দরবনের দুটি রেঞ্জ এলাকায় ১২ হাজার ৩৩২টি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া স্থাপনা, জেটি, উডেন ট্রেইল, ওয়াচ টাওয়ার ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়। পূর্ব সুন্দরবনের দুটি রেঞ্জ এলাকায় ২৬টি গাছ ভেঙে যায়। জব্দ রাখা বেশ কিছু কাঠ জোয়ারের পানিতে ভেসে যায়। তবে বাঘ, হরিণসহ অন্য কোনও বন্যপ্রাণীর কোনও ধরনের ক্ষতির খবর ছিল না। আবার ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলার আঘাতে সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগে গাছপালা, স্থাপনা মিলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। শরণখোলা রেঞ্জের অধীন ৩৬ হেক্টরের ৩টি বাগান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়। এ সময়ে ৩১ মে পর্যন্ত ৩টি হরিণ ও একটি শুকরের মৃতদেহ পাওয়া যায়। পশ্চিম বন বিভাগের আওতায় সুন্দরবনের ৯টি স্টেশনের ৩৫টি টহল ফাঁড়ির মধ্যে ১২টি ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় সিডরে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক