দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার পিতা ওমর আলী শেখকে হাতুড়িপেটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের ঘটনায় গ্রেফতার নবিরুল ও সাণ্টুর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে মানতে চাইছেন না তাদের স্বজনরা। এছাড়া শুধু চুরির জন্য এমন হামলা বলেও বিশ্বাস করছেন না স্থানীয়রা। কিন্তু র্যাব জানিয়েছে, আসাদুলের স্বীকারোক্তি থেকে পাওয়া তথ্যের মাধ্যমেই নবিরুল ও সাণ্টুকে আটক করা হয়েছে।
এই হামলার ঘটনায় আটক আসাদুলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য অভিযোগ থাকলেও নবিরুল ও সাণ্টু দুজনই রংমিস্ত্রি, তাদের বিরুদ্ধে আগের কোনও অভিযোগ নেই। তবে তারা যদি বাস্তবে এমন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তাদের শাস্তি দাবি করেছেন স্বজনরাও।
গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিলি ও ঘোড়াঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউএনও'র ওপর হামলায় জড়িত সন্দেহে ছয় জনকে আটক করে র্যাব। পরে যাচাই বাছাই শেষে আসাদুল, নবিরুল ও সাণ্টুকে গ্রেফতার দেখিয়ে জাহাঙ্গীর, মাসুদ ও পলাশ নামের তিন জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের সবার বাড়ি ঘোড়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।
স্থানীয়রা জানান, আসাদুল দীর্ঘদিন ধরেই উপজেলা পরিষদের পার্শ্বেই ওসমানপুর বাজারে ভ্যান-রিকশা বা সিএনজি ঠেকিয়ে চাঁদা আদায় করতো, আর সে মোটরসাইকেল নিয়ে হিলিতে যেতো। সে বেশ কিছুদিন ধরেই মাদকাসক্ত ছিল। তবে বাকি দুজন নবিরুল ও সাণ্টু রং মিস্ত্রি। সেই হিসেবেই আমরা তাদের দুজনকে জানি। এরা যে ইউএনওর বাড়িতে ঢুকে তার ওপর হামলা চালাবে এমনটি আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না।
ঘোড়াঘাট পৌরসভা মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'এই ঘটনায় আরও গভীর তদন্ত দরকার, শুধু চুরির জন্য নাকি অন্য কোনও ঘটনা ছিল, সেটি বের করা দরকার। কোনও বাসাতে যদি ডাকাতি হয়, সেক্ষেত্রে বাসার আলমারি বা ড্রয়ার ভাঙা-তছনছ অবস্থায় থাকবে কিন্তু এই ঘটনায় ওরকম কিছুই দেখতে পাওয়া যায়নি।'
সাণ্টুর স্ত্রী চামেলি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'আমার স্বামী রং এর কাজ করতো, বিয়ের পর থেকেই দেখে আসছি সে রং এর কাজ করে। সে এইসব করতে পারে না, আমার বিশ্বাস হয় না। আপনারা ভালো করে তদন্ত করুন। নিরপরাধ মানুষকে শাস্তি দেওয়ার দরকার নাই। যারা অপরাধ করছে, তাদের খুঁজুন, তাদের শাস্তি দিন।'
নবিরুলের স্ত্রী মাবিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'সে তো রংমিস্ত্রির কাজ করে, আর যেদিন এই ঘটনা ঘটে সেদিন সে তো বাড়িতেই ছিল, কোথাও তো যায়নি। রাতে যদি বাইরে থাকতো, তাহলে না হয় বুঝতাম। কিন্তু তারা তো রাতে বাড়িতেই ছিল।'
তার স্বামীকে আটকের প্রসঙ্গে আরও বলেন, 'সেদিন বাজারে রং করার সময় তাকে ধরে নিয়ে বাড়িতে আসে, ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করে ফেলে ছোট্ট একটা হাতুড়ি আর রংমাখা একটা ক্যাপ নিয়ে যায়। সে ইউএনও'র বাড়িতে রং এর কাজ কোনদিন করেনি, অন্য কোনও চেয়ারম্যানের ভবনে রং এর কাজ করেছিল।'
নবিরুলের ভাগ্নি গোলাপি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'সে যদি অপরাধ করতো, তাহলে তো লুকানোর বা পালানোর চেষ্টা করতো। আগের দিন যেখানে এই ঘটনা হলো, পরের দিন সে ঘটনাস্থলের সামনেই কাজ করছিল, তার মধ্যে কোনও ভয় ছিল না জন্যই সে কাজের মধ্যেই ছিল।'
শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর র্যাব-১৩ কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে কমান্ডার রেজা আহম্মেদ ফেরদৌস জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদুল ইউএনওর ওপর হামলা করে তাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করেই নবিরুল ও সাণ্টুকে গ্রেফতার করা হয়। তারা সবাইই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা জানায়। চুরির উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে।








