পরিবারকে একটু আর্থিক স্বস্তি দিতে চাকরির প্রত্যাশায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন কিশোরী উম্মে কুলসুম (১৪)। কিন্তু, চাকরি করে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ দূরে থাক নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই কিশোরী। স্বপ্ন যাত্রা ধূলিস্মাৎ হওয়া এই কিশোরী অবশেষে দেশের মাটিতে ফিরেছে লাশ হয়ে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোর্কণ ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে কিশোরী উম্মে কুলসুম। তার বড় বোন উম্মে হাবিবা আক্ষেপ করে বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমার বোন সৌদি আরব গিয়েছিল। তবে সেখানকার মানুষের অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আমার বোন লাশ হয়ে দেশের মাটিতে ফিরলো। আমরা জানি এর বিচার পাবো না।
তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, গত ৯ আগস্ট আমার বোন সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে প্রাণ হারান। পরে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আমার ছোটবোনের লাশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে। গতকাল শনিবার দুপুরে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। বাদ মাগরিব তার লাশ দাফন করা হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমরা এ ঘটনার জন্য বিচার চাই।
তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কেন কাউকে বিদেশের মাটিতে গিয়ে এমন ভাবে অকালে মরতে হবে? আমাদের সরকার বিদেশে লোক পাঠাতে পারবে আর বিচার চাইতে পারবে না?
নিহতের পিতা শহিদুল ইসলাম জানান, গত মাসের ১৭ আগস্ট জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে তিনি তার মেয়ের লাশ ও আট মাসের বকেয়া বেতন ফেরত পেতে একটি লিখিত আবেদন করেন। লিখিত অভিযোগ তিনি বলেন, স্থানীয় দালাল রাজ্জাক মিয়ার মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ১৭ মাস পূর্বে মেসার্স এম এইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের (আর এল নং-১১৬৬) মাধ্যমে কুলসুমকে গৃহকর্মীর কাজে সৌদিআরব পাঠানো হয়। সেখানে গৃহকর্মী হিসেবে যোগদানের পর থেকেই আমার মেয়ে কুলসুমের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন শুরু করে মালিকপক্ষ। নির্যাতনের কারণে মেয়েকে ফিরিয়ে আনার জন্যে রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার পরও তাদের পক্ষ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। গত চার মাস আগে সৌদি আরবে গৃহকর্তা ও তার ছেলে মিলে কুলসুমের দুই হাঁটু, কোমর ও পা ভেঙে দেয়। এর কিছুদিন পর একটি চোখ নষ্ট করে রাস্তায় ফেলে দেয়। পরে সৌদি আরবের পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সেখানকার কিং ফয়সাল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে গত ৯ আগস্ট সেখানকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় কুলসুম।
নিহত উম্মে কুলসুমের মা নাসিমা বেগম বলেন, মেয়ে মারা যাওয়ার পর একাধিক বার প্রতিকার চেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু, তারা কোনও পাত্তা দেননি বলে অভিযোগ করেন। তিনি তার কন্যা কুলসুম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি বিদেশের মাটিতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
এ ব্যাপারে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম আরিচুল হক জানান, দুই দেশের বিষয় হওয়ায় নাসিরনগর থানা পুলিশের পক্ষে কোনেও ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমরা কোনেও ধরনের নির্দেশনা পাইনি।








