দীর্ঘ ১১ বছর পর আবারও রক্তাক্ত হলো রাজশাহীর বাগমারা। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার আহমদিয়া সম্প্রদায়ের একটি মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে অজ্ঞাত এক যুবক মারা যায়। আহত হয় প্রায় ৩০ মুসল্লি।
২০০৪ সালের আগে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা নওগাঁর আত্রাই, রানীনগর ও নাটোরের নলডাঙ্গা পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এলএমএল) ক্যাডারদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এর মধ্যে বাগমারা পরিচিত ছিল রক্তাক্ত জনপদ নামে। বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র আলো খন্দকার থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান মরু হামিদসহ কয়েকজন ব্যক্তিকে সর্বহারাদের হাতে প্রাণ হারাতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, সর্বহারাদের হাতে নিহত হয়েছিলেন বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির তিন পুলিশ সদস্যও।
এরপর সর্বহারা দমনের নামে সেই বাগমারাতেই উত্থান ঘটে জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) নামের জঙ্গি সংগঠনটির।
২০০৪ সালের ৩১ মার্চ রানীনগর এলাকায় হঠাৎ করে আবির্ভূত হয় জেএমবি। যার নেতৃত্বে ছিলেন জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাই। পরের দিন ১ এপ্রিল তারা বাগমারায় প্রথম অপারেশনের নামে শুরু করে তাণ্ডব।
প্রায় তিন মাসের ওই তাণ্ডবে রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁয় সবমিলিয়ে অন্তত ২৩ জনকে হত্যা করে জেএমবি ক্যাডাররা।
২০০৪ সালের জুনের শেষের দিকে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা ছাড়ে জেএমবি ক্যাডাররা। এরপর থেকে বাগমারা ক্রমেই শান্ত হয়ে ওঠে।
প্রায় ১১ বছর পর শুক্রবার দুপুরে সেই শান্ত বাগমারা আবারও কেঁপে ওঠে বোমার বিকট শব্দে। আহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, এর আগে কখনও বাগমারায় মসজিদের বোমা হামলার ঘটনা ঘটেনি। এর আগে এই অঞ্চলে আত্মঘাতী হামলার ঘটনাও ঘটেনি।
মচমইল সৈয়দপুর আহমদিয়া মুসলিম জামাত কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বোমাটি বিস্ফোরণের পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশেপাশের মানুষরাও ছুটোছুটি করতে থাকে। মসজিদের ভেতরকার মুসল্লিদের আর্তচিৎকারে বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। সবার চোখে আতঙ্ক। অনেকে ভয়ে কাঁদতে শুরু করে।’
এদিকে ঘটনার পরই ঘটনাস্থলে ছুটে যান রাজশাহী জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, পুলিশ সুপার নেসারুল আরিফ, র্যাব, পুলিশ, সিআইডি, ডিবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার নেসারুল আরিফ জানান, বোমা বহনকারী যুবকের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়রা কেউ তাকে চিনতে পারেনি।
/আরএ/এফএ/








