বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আর মাত্র কয়েকদিন বাকি এই মহোৎসবের। দুর্গা দেবীর আগমনকে ঘিরে প্রতিমা তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জামালপুর জেলা শহরসহ ৭ উপজেলার প্রতিমা কারিগররা। দিন-রাত পরিশ্রম করে তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি করছেন একেকটি অসাধারণ মনোমুগ্ধকর অনিন্দ্য সুন্দর দুর্গা দেবীর প্রতিমা। ২২ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে শুরু হয়ে ২৬ অক্টোবর দশমী তিথিতে প্রতিমা বির্সজনের মধ্যে দিয়ে দুর্গাপূজা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
জামালপুর জেলা শহরের প্রায় সাড়ে তিনশ' বছরের প্রচীন দয়াময়ী মন্দিরের প্রতিমা তৈরির কারিগর এসেছেন ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলা শহর থেকে। কারিগর লিটন চন্দ্র পাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'এবার করোনাভাইরাস ও সময় কম থাকার কারণে বেশি প্রতিমা তৈরির আর্ডার নেইনি। গত বছর নিয়েছিলাম ১৫টি প্রতিমার সেট তৈরির কাজ। এবছর শুধু ১ টি প্রতিমা তৈরির আর্ডার নিয়েছি। এগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যের অর্ডার পেয়েছি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার বাস-ট্রাক মালিক সমিতির একটি প্রতিমার জন্য, যার মূল্য ৮০ হাজার টাকা।
এসব বিষয়ে আরও কথা হয় জামালপুর জেলা শহরের রাধামোহন জিও মন্দিরের প্রতিমা তৈরির কারিগর সরণ চন্দ্র পাল, শহরের দুর্গাবাড়ী পূজা মন্দিরের কারিগর কালিদাস আচার্য্য, শহরের বসাকপাড়া মন্দিরের কারিগর হৃদয় সূত্রধরের সঙ্গে। তারা জানান, একটি প্রতিমা তৈরি করতে কারিগরদের সর্বনিম্ন ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রয়োজন হয় তিন থেকে চার ভ্যান মাটি, খড় লাগে প্রায় এক মণ। খড়ের দাম ও মাটির দাম দুই হাজার টাকা। এছাড়াও কাঠ, বাঁশ, সুতলি, পেরেক, সুতা ও ধানের গুড়াসহ রঙসহ বিভিন্ন জিনিসের প্রয়োজন হয়। আর বাকি জিনিসগুলোর জন্য খরচ হয় আরও পাঁচ-সাত হাজার টাকা।
জামালপুর শহরের দয়াময়ী মন্দিরের পুরোহিত নিরঞ্জন চন্দ্র ভট্টাচার্য জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা আগামী ২২ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে শুরু হবে এবং ২৬ অক্টোবর দশমী তিথিতে প্রতিমা বির্সজনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে। তাই কারিগররা দেবী দুর্গাসহ প্রতিমাগুলোকে মনোমুগ্ধকর অনিন্দ্য সুন্দর রূপ দিতে ও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে কাজ করছেন।
জামালপুর জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাবু প্রদীপ কুমার সোম ও সাধারণ সম্পাদক চির কুমার সিদ্ধার্থ শংকর রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'এবার জেলায় মোট ২১০টি পূজা মণ্ডপে দেবী দুর্গার পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তার ভেতর সদর উপজেলায় ৬০টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে । গত বছর জেলায় মোট ২০৬টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।'
জামালপুর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, 'এবার পূজোয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে অবশ্যই ভক্তদের মুখে মাস্ক পড়তে হবে। সামজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রতিমা দর্শন করতে হবে। এছাড়াও সব সরকারি নিয়ম মেনে পূজা অনুষ্ঠিত করতে হবে।' তবে এখন পর্যন্ত জামালপুর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদের কোনও মিটিং হয়নি বলেও জানান তিনি।








