পাবনায় গ্রামবাসীর হাতে দুটি মেছোবাঘ আটক হয়েছে। এসময় মেছোবাঘের আক্রমণে চার জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) জেলার চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের বামনগ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
বামনগ্রামে বাসিন্দা ইমদাদুল হক জানান, গত কয়েক দিন ধরে বামনগ্রামের গোরস্থান এলাকায় দুটি মেছোবাঘের দেখা মেলে। ইতোমধ্যে বেশকিছু মুরগি ও একটি ছাগল ধরে খেয়েছে মেছোবাঘ। এরপর থেকে গ্রামের মানুষের মাঝে ‘বাঘ’ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার সকালে মেছোবাঘ দেখা গেলে গ্রামবাসী একজোট হয়ে গোরস্থান ঘিরে ফেলে। তারপর বিভিন্ন কৌশলে মেছোবাঘ দুটিকে এলাকাবাসী আটক করতে সক্ষম হয়। এসময় বাঘের আক্রমণে চার জন আহত হয়। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর পিটুনিতে একটি বাঘ মারা যায়। মৃত ও জীবিত মেছোবাঘ উদ্ধার করে ডিবিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে নিয়ে গেলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
ডিবিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ নবীর উদ্দিন মোল্লাা জানান, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে মেছোবাঘগুলো না মেরে উদ্ধার করে পরিষদে নিয়ে আসতে বলি। আনার সময় পথে একটি মেছোবাঘ মারা যায়। মেছোবাঘের আক্রমণে চার জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- বামনগ্রামের ইছা বিশ্বাসের ছেলে লিটন বিশ্বাস (৩৫), মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে এনামুল হক (২৩), ইসমাইল হোসেনের ছেলে মহিদুল ইসলাম (২৮) ও আফসার আলীর ছেলে আনিছ (৩০)। তাদের উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলাম জানান, সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করে আহতদের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক বন বিভাগ পাবনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, পাবনার বন্য প্রাণী বিষয়ক সংগঠন নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ড লাইফ কনসারভেশন কমিউনিটির মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি জীবিত মেছোবাঘ উদ্ধার করেছি। অন্যটি মারা গেছে। উদ্ধার মেছোবাঘ কিছুটা আহত। তাকে প্রয়াজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর সুন্দর পরিবেশ দেখে অবমুক্ত করা হবে।
পাবনার বন্য প্রাণী বিষয়ক সংগঠন নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ড লাইফ কনসারভেশন কমিউনিটির সভাপতি এহসান আলী বিশ্বাস লিঠু জানান, এটি মূলত বিপন্ন প্রজাতির মেছো বিড়াল বা বাঘরোল। কিন্তু অনেকেই এটিকে মেছোবাঘ বলে ডাকেন। এরা মানুষের কোনও ক্ষতি করে না। ক্রমেই তাদের বসবাসের জায়গা কমে আসায় অনেক সময় লোকালয়ে দেখা যায় তাদের। এদের রক্ষা করতে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।








