ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ছাত্রী উলফাত আরা তিন্নিকে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে তিন্নিকে হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে তারা। একইসঙ্গে বিচার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা। এসময় শিক্ষার্থীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে এ ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। এতে এমন ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি চাই না, তদন্ত চাই, তদন্ত চাই, তিন্নির রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই ইত্যাদি ব্যানার হাতে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তিন্নির এ রহস্যজনক মৃত্যু জাতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এ ঘটনার সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ বিচার চাই। যদি তা না হয় তাহলে এর থেকে তীব্র আন্দোলনে যাবো আমরা।
তারা বলেন, এমন ঘটনার পুনারবৃত্তি দেখতে চায় না বাংলার মানুষ। এজন্য দেশের ছাত্রসমাজকে সোচ্চার ও আন্দোলন করতে হবে। ছাত্রসমাজ ছাড়া এসব ঘটনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেও খুব বেশি কাজ হয় না।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘পত্রিকার পাতা খুললেই মনে হয় ধর্ষণ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আজ আমাদের তিন্নির সাথে এমন হবে ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে। এ যন্ত্রণা এত কঠিন আগে বুঝিনি। তিন্নি দেশসেবার ব্রত নিয়ে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছিলো।’
বক্তারা বলেন, ‘আমরা এক মহাসংকটে ও মর্মান্তিক বিষয় নিয়ে দাঁড়িয়েছি। আমাদের সবার ঘরেই মা-বোন আছে। আমার পরিবার নিরাপদ তো? মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা সদস্যের পরিবার যদি এভাবে লাঞ্ছিত হয়ে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে কোথায় যাবো আমরা? যে দেশে নারী ক্ষমতায়নের কথা শুনি, সে দেশে আমার বোন নিরাপদ নয় কেন? এটা জাতির জন্য কলঙ্ক।’
তারা দাবি করেন, ‘তিন্নির সাবেক দুলাভাই সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে নারকীয়ভাবে তিন্নিকে হত্যা করেছে।’
মানববন্ধনে তিন্নির স্বজন রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। আমার মতো আর কারও বোনের যেন এমন অকাল মৃত্যু না হয়। এজন্য এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়।’
মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রমৈত্রীর নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাগণ। এ সময় তিন্নির স্বজনরাসহ শতাধিক শিক্ষার্থী মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
নিহত তিন্নি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি শৈলকূপা থানাধীন যোগীপাড়া গ্রামের মৃত ইউসুফের মেয়ে। সেখানে স্থায়ী নিবাস হলেও বোন ও মাকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া বাজার সংলগ্ন একটি দোতলা বাসায় থাকতেন তারা।
ঘটনার দিন রাতে তার মেজো বোনের প্রথম স্বামীর বিরুদ্ধে তাকে হত্যার অভিযোগ করেছে তার পরিবার।








