ঠাকুরগাঁওয়ে রশিদুল ইসলাম (১৬) নামে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে শহিদুল ইসলাম বুলু (৫৯) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়াও তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০০৬ সালের ১ জুন ওই ঘটনা ঘটে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বি এম তারিকুল কবীর এ রায় ঘোষণা করেন।
এছাড়াও ওই মামলার অপর আসামি বাহাদুর আলীর (৫৯) বিরুদ্ধে ৩২৩ ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫শ’ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম বুলু(৫৯) উপজেলার দক্ষিণ রাজাগাঁও গ্রামের মৃত জাকারিয়ার ছেলে এবং বাহাদুর আলী একই গ্রামের সংলু কসাইয়ের ছেলে।
এছাড়াও অপর ১০ আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। এরা হচ্ছেন আশরাফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ,খাদেমুল ইসলাম, একরামুল হক, শাহাদুর, সলিম উদ্দীন ওরফে সংলু কসাই, রজব আলী, শামীম হোসেন, শাহিনুর ও মোছা. ফরিদা বেগম।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১ জুন সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে মামলার বাদী সিরাজুল ইসলাম তার দুই সহোদর শাহালম ও রশিদুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির কিছূ দূরে রাজাগাঁও মৌজায় পৈত্রিক জমিতে হাল চাষ করতে যান। এর কিছুক্ষণ পর আসামিরা বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে লাঠি সোঁটা, লোহার রডসহ অবৈধ অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদীকে হালচাষে বাধা দেয়। বাদী তাদের বাধা দেওয়ার কারণ ও মালিকানার পক্ষে কাগজ দেখতে চাইলে আসামি শহিদুল ইসলাম বুলুর হুংকারে আসামিরা বাদীর ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। বাদীকে মারপিট করায় তার অপর দুই ভাই তাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে গেলে তারা তাদের ওপরও হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আহতদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকে রশিদুলকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে পরদিন ২ জুন বিকেল ৪ টায় সেখানে রশিদুল ইসলাম মারা যায়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামি করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০০৭ সালের ২৬ এপ্রিল তদন্ত শেষে ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
বাদীর অভিযোগ,পুলিশের চার্জশিট ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যপ্রমাণে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ওই রায় ঘোষণা করেন।








