গফরগাঁওয়ে যক্ষ্মার প্রকোপ: আক্রান্ত ৮৭৫, দু’বছরে মৃত্যু ৩৭ জনের

আশরাফ উদ্দিন সিজেল, ময়মনসিংহ
২৬ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৬:০২আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৬:০২

ময়মনসিংহে গফরগাঁও উপজেলায় যক্ষ্মা ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ছে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন গরিব পরিবারের সদস্যরা।২০১৪ সালে ও চলতি বছরে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন থেকে যক্ষ্মার চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা ৮৭৫ জন। এর মধ্যে দুই বছরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে ৩৭ জনের। সরকারিভাবে এই হিসাব পাওয়া  গেলেও যক্ষ্মায় আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এলাকাবাসী ও স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গফরগাঁও উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় যক্ষ্মার প্রকোপ দীর্ঘদিন ধরে। সরকার ২০১৫ সালের মধ্যে এ রোগ নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

উল্লেখ্য যক্ষ্মা একটি জীবাণুঘটিত রোগ যা মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামের জীবাণুর মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির প্রকাশ্যে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগের জীবাণু বের হয়ে বাতাসে মিশে যায়। এই জীবাণু বাতাস থেকে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সুস্থ মানুষের ফুসফুসে  প্রবেশ করে বংশ বৃদ্ধি করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকলে খুব সহজেই সুস্থ মানুষেরা যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় বেসরকারি সংস্থা ডেমিয়েন ফাউন্ডেশন সিনিয়র টিএলসিএ খন্দকার আল মুনসুর বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, হাসপাতালে যক্ষ্মা রোগের কোয়ার্টার ভিত্তিতে চিকিৎসা করানো হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি কোয়ার্টার চার ধাপে নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন।

যক্ষ্মা রোগী

তবে ডেমিয়েন ফাউন্ডেশনের নিয়োগ করা লোকজন রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ডেমিয়েন ফাউন্ডেশনের সুপারভাইজার মোজাম্মেল হক তার যথাযথ দায়িত্ব পালন করেন না বলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোগী অভিযোগ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত কেউ কেউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আবার কেউ কেউ ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। অনেকেই অভাবের কারণে নিয়মিত বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে পারছেন না। অনেক রোগী অশিক্ষা ও দারিদ্র্যের কারণে সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারছেন না।

গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলম আরা বেগম বলেন, গ্রামের দরিদ্র লোকরা কোনও অসুখ হলেই প্রথমেই যায় গ্রাম্য ডাক্তারের ফার্মেসিতে। অনেক পরে হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছে আসেন তারা। তবে রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যক্ষ্মা রোগীদের জন্য ওষুধের কোনও সঙ্কট নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

/এফএস/টিএন/  

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম