দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) উপাচার্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা। এতে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে জড়িত ১৭ শিক্ষক তাদের দায়িত্ব পালনে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেন তারা।
এর আগে দুপুরে ওই শিক্ষকরা উপাচার্যের সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলতে গেলে উপাচার্য তাদের সঙ্গে দেখা না করে ফিরিয়ে দেন।
প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে বিরত থাকার সিদ্ধান্তপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে হাবিপ্রবির উপাচার্য ড. মু. আবুল কাশেম প্রশাসনিক ভবনে অফিস নাা করায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলবস্থার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের নেতৃত্বে প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ সমস্যা থেকে উত্তোরণে আলোচনা করতে উপাচার্যর বাসভবনে যান। তবে উপাচার্য দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার মোবাইলফোনে স্বাক্ষাতের অনুরোধ জানালেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। মূল ফটকে প্রশাসনের দায়িত্বরত শিক্ষকরা প্রায় আধাঘণ্টা অপেক্ষা করে বাধ্য হয়ে ফিরে আসেন। পরে তারা সিদ্ধান্ত নেন, উপাচার্যের উদ্ভট আচরণের জন্য প্রশাসনিক পদে দায়িত্বরত শিক্ষকরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে বিরত থাকবেন।’
সিদ্ধান্তপত্রে স্বাক্ষর করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হালদার, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ডা. ফজলুল হক, আইআরটির পরিচালক প্রফেসর ড. তারিকুল ইসলাম, পিআরওর পরিচালক প্রফেসর ড. শ্রীপতি শিকদার, পোস্ট গ্র্যাজুয়েটের ডিন ড. ফাহিমা খানম, পরিবহন শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. মফিজউল ইসলাম, প্রক্টর প্রফেসর ড. খালেদ হোসেন, সহকারী প্রক্টর শিহাবুল আউয়াল ও ড. রবিউল ইসলাম, আইভী রহমান হলের সুপার রোজিনা ইয়াসমিন লাকী, শেখ রাসেল হলের সুপার ড. রাশেদুল ইসলাম, সিএসইর ডিন ড. মাহবুব হোসেন, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. ইমরান পারভেজ, সহকারী পরিচালক আব্দুল মোমিন শেখ ও ড. হাসানুর রহমান, পরিচালক প্রফেসর ড. মোস্তাফিজার রহমান, সহকারী হল সুপার মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইআরটির পরিচালক প্রফেসর ড. তারিকুল ইসলাম বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপাচার্য। কিন্তু গত ৭ মাস ধরে তিনি অফিস করছেন না। বাড়ি থেকেই ফাইলপত্র স্বাক্ষর করছেন। অথচ প্রশাসনিক অনেক কার্যক্রম রয়েছে, যেগুলো সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে না। বারবার তার সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে যোগাযোগ করা হলেও অসুস্থতার অজুহাতে তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন। এখন অবস্থাটা এমনই যে, আমরা যারা রয়েছি তাদের কোনও মূল্য নেই তার কাছে। তাই আমরা প্রশাসনিক সব কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা চলবে বলে জানান তিনি।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. ফজলুল হক বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সবসময় ভাইস চ্যান্সেলরকে সহযোগিতা করে আসছি। কিন্তু তিনি গত ৭ মাস ধরে তার কার্যালয়ে আসেন না। এমনকি আমরা যারা প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছি, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজে তার বাসভবনে গেলেও তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করেন না। আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আটকে আছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সবশেষ মঙ্গলবার দুপুর ২টায় ভাইস চ্যান্সেলরের বাসভবনে দেখা করতে গেলেও তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করেননি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে বাধ্য হয়েই সন্ধ্যায় মিটিং করে আমরা এই দায়িত্ব পালন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য প্রফেসর ড. মু আবুল কাশেমের ফোনের একাধিকবার কল করেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।








