সাদা পোশাকে এক কিশোরকে আটক করতে গিয়ে তার মা-বোনকে মারধর ও থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সালমান ইসলাম মারুফ নামের এক কিশোরের আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই হেলাল উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) হেলালকে চাকরিচ্যুত করা হয়। নগর পুলিশের উপ কমিশনার (সদর) আমীর জাফর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, হেলাল উদ্দিন নগরীর ডবলমুরিং থানায় কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন হেলাল সাদা পোশাকে নগরীর আগ্রাবাদ বড় মসজিদ এলাকার মারুফকে আটক করতে যান। মারুফকে আটক করে নিয়ে আসার সময় তার মা-বোন বাধা দিলে তাদেরকে তিনি মারধর করেন। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে ঘটনার কিছুক্ষণ পর মারুফ চাচার বাসায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
উপ কমিশনার (সদর) আমীর জাফর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনার পরপরই হেলালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিলো। পাশাপাশি এই ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি হেলালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পায়। তাদের তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকেই তাকে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চাকরিচ্যুত করা হয়।’
মৃত সালমান ইসলাম মারুফের বাবার নাম দিদারুল আলম। চার ভাই-বোনের মধ্যে মারুফ দ্বিতীয়। সে চাচার দোকানে চাকরির পাশাপাশি টিঅ্যান্ডটি কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।
আত্মীয়রা জানান, গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় এক ব্যক্তি তাদের বাসায় উঁকি দিচ্ছিলো দেখে মারুফ ‘চোর’ সন্দেহে ওই ব্যক্তিকে ধরে ফেলে। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই তৎকালীন ডবলমুরিং থানার এসআই (উপপরিদর্শক) হেলাল উদ্দিন সাদা পোশাকে সেখানে উপস্থিত হন। তিনি মারধরের শিকার ব্যক্তিকে তার সোর্স দাবি করেন। একইসঙ্গে মারুফ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এমন অভিযোগ তুলে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যেতে চান। তখন মারুফের মা-বোনের সঙ্গে এসআই মারুফ ও তার সোর্সদের কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। এলাকাবাসীও পুলিশকে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে মারুফ ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। পরে মারুফকে না পেয়ে এসআই হেলাল তার মা-বোনকে লাঞ্ছিত করে এবং জোর করে থানায় নিয়ে যায়। এ অপমান সহ্য করতে না পেরে মারুফ আত্মহত্যা করে।
ঘটনা তদন্তে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) শ্রীমা চাকমাকে প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ। ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি কমিটি। পরে ওই কমিটি বাতিল করে তৎকালীন নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। গত ২০ জুলাই ওই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্তে হেলালের বিরুদ্ধে ওঠা বেশকিছু অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে কমিটি তাকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করে।








