কমিটি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চৌগাছা উপজেলা ও পৌর কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ ছাত্রদল নেতা পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগীদের দাবি, কমিটিতে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, দোকান কর্মচারী ও বিবাহিতদের প্রাধান্য দেওয়ায় তারা পদত্যাগ করেছেন।
অবশ্য জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর বলেছেন, তিনি এখনও পদত্যাগপত্র হাতে পাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে (৫ অক্টোবর) চৌগাছা উপজেলা, পৌর ও সরকারি কলেজ কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরদিন উপজেলার ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি থেকে চার যুগ্ম-আহ্বায়কসহ ১১ জন এবং পৌর কমিটির ১২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি থেকে আহ্বায়ক ও চার যুগ্ম-আহ্বায়কসহ সাত জন পদত্যাগ করেছেন।
পদত্যাগী নেতারা হলেন, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক-১ আল আমিন ইসলাম তুহিন, যুগ্ম আহ্বায়ক-২ আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক-৪ জাকির হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক-৬ ইমরান হোসেন এবং সদস্য যথাক্রমে রবিউল ইসলাম, আলী রেজা রাজু, ইলিয়াস হোসেন, খালেদুর রহমান, বিপুল হোসেন, সুরুজ হোসেন সুমন ও হুমায়ুন কবীর।
এছাড়া, পৌর কমিটির আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক-১ মেহেদী হাসান শয়ন, যুগ্ম আহ্বায়ক-২ হাকিম রেজা, যুগ্ম আহ্বায়ক-৫ শোয়াইব আক্তার, যুগ্ম আহ্বায়ক-৬ ইমরান হোসেন শাকিল এবং সদস্য রাকিব হোসেন ও আব্দুর রহমান নয়ন।
পদত্যাগী উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক-১ আল আমিন ইসলাম তুহিন বলেন, ‘ছাত্রদলের অভিভাবক তারেক রহমানের নির্দেশ অমান্য করে এই কমিটি দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল ছাত্রদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটিয়ে এই কমিটি দেওয়া হয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা কমিটিতে যাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে তিনি একজন দুধ বিক্রেতা। ২০১৬ সালের ৪ জুনের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চৌগাছা সদর ইউপির দিঘলসিংহা ওয়ার্ড থেকে মেম্বার পদে ভ্যান প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। কমিটির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হাসান এনজিওতে চাকরি করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা দুই কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠরা পদত্যাগ করেছি। প্রতিনিধি হিসেবে আমি নিজে ৬ অক্টোবর জেলা ছাত্রদলের সভাপতির বাড়িতে পদত্যাগপত্র নিয়ে যাই। কিন্তু বাড়িতে ঢুকতে না দিয়ে মোবাইল ফোনে জানান তিনি ঢাকায় রয়েছেন। পরে ওই ১৮ জনের পদত্যাগপত্র কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে জেলা ছাত্রদল সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর পাঠিয়েছি। একইসঙ্গে অনুলিপি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি-সম্পাদক বরাবরও পাঠানো হয়েছে।’
পদত্যাগী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘উপজেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক প্রার্থী ছিলাম। আমাকে পদ থেকে বঞ্চিত করে অছাত্র, যারা কমিটিতে আসার যোগ্য নয়, যারা কোনও আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে না, তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগী মাজিদুল ইসলাম বলেন, ‘যাকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক করা হয়েছে, তিনি ২০০৩ সালের দিকে এসএসসি ফেল করেন। পৌর কমিটির সদস্য সচিব যাকে করা হয়েছে, তিনি একটি পোল্ট্রি মুরগির দোকানের কর্মচারী। পৌর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শোয়াইব আক্তার গ্রামীণ ব্যাংকের ঝিনাইদহ শাখায় কর্মরত। এছাড়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাকিব হাসান বিবাহিত।’
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদ পাওয়া জসিম উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
যশোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর বলেন, ‘এখনও পদত্যাগপত্র হাতে পাইনি। ফেসবুকে দেখছি ১৫ জন পদত্যাগ করেছেন। এভাবে তো আর পদত্যাগ করা যায় না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতাদের নিয়ে চৌগাছায় কর্মী সমাবেশ করেছি। যতটুকু জানি কোনও চাকরিজীবী কমিটিতে আসেনি। ২০০৫ সালের আগে এসএসসি পাস এমন কাউকেই কমিটিতে আনা হয়নি। কলেজ কমিটির বিষয়ে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, ছাত্র ছাড়া কমিটিতে আসতে পারবেন না। উপজেলা কমিটির বিষয়ে কিছুটা ম্যাচিউরিটি দেখা হয়েছে। আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রাম, পুলিশ ও জেল-জুলুম মোকাবিলায় মানসিকভাবে শক্ত এমন নেতাদের আনা হয়েছে।’








