তিন বছর পর ট্রিপল মার্ডার মামলার মূল আসামি গ্রেফতার

পটুয়াখালী সংবাদদাতা
১২ অক্টোবর ২০২০, ১৮:৫২আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২০, ১৭:৩২

তিন বছর পর ট্রিপল মার্ডার মামলার মূল আসামি গ্রেফতার পটুয়াখালীর গালাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামের আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান আসামি শহিদকে তিন বছর পর ঢাকা জেলার সাভার থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে ১১টার দিকে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার কার্যালয় এক সংবাদ সংম্মেলনে এ তথ্য জানান।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের একটি দল মামলার তদন্তকারী গালাচিপা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে ১০ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা জেলার সাভার থেকে শহিদকে গ্রেফতার করে। 

সংবাদ সংম্মেলনে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. মইনুল হাসান জানান, ২০১৭ সালের ২ আগস্ট পটুয়াখালীর গালাচিপার আমখোলা ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামে নির্জন ঘরে তিন জনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। দেলোয়ার মোল্লা (৬৫), তার স্ত্রী পারভীন বেগম (৬৫) এবং তাদের পালিত কন্যা কাজলী আক্তার (১৫) এদেরকে নিজ বসতঘরে অজ্ঞাতনামা হত্যাকারী নির্মমভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে। এসময় তাদের শরীর থেকে বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে দুর্বৃত্তরা।

চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নিহতের বড় ভাই ইদ্রিস মোল্লা বাদী হয়ে গালাচিপা থানায় ২০১৭ সালের তিন আগস্ট অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামালা দায়ের করেন (মামলা নম্বর-০৩, যার ধারা -৩০২/৩৪)। এ ঘটনায় ভিকটিম দেলোয়ার মোল্লার বোন পিয়ারা বেগম বাদী হয়ে ২২ জনের নামসহ অঞ্জাতনামা ১০/১৫ জনকে আসামি করে গালাচিপা বিজ্ঞ জুডিশিয়াল আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি সংযুক্ত করে পুলিশকে তদন্ত করার জন্য আদেশ দেন।

এরপরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ৯ অক্টোবর ঢাকার পল্লবী থানার বাউনিয়া বাঁধ এলাকা থেকে মোহাম্মদ আবু রায়হানের কাছে থাকা ভিকটিম কাজলীর খোয়া যাওয়া নকিয়া-১২৮০ মডেলের মোবাইলফোনটি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আবু রায়হান জানান, তার বাড়ি বরিশাল জেলার হিজলা এলাকায়। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে তার ফুপুর ননদের স্বামী শহিদ তাকে উক্ত মোবাইলটি দেয়।

পুলিশ জানায়, শহিদ নাম পরিবর্তন করে জাহাঙ্গীর নাম ব্যবহার করছিলো। সাভারে সে একটি ভাড়া বাসায় প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতো এবং অটোরিকশা চালাতো। সে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর কোনও খোঁজখবর নিতো না। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শহিদ জানায়, তার দুই স্ত্রী থাকার পরও কাজলীকে বিয়ে করতে চেয়েছিলো। কিন্তু কাজলীর মা শহিদের সঙ্গে তাকে বিয়ে দিতে রাজি ছিল না। এর পরিপ্রেক্ষিতে শহিদ তাদের হত্যা করে। ২০১৭ সালের ১ আগস্ট দিবাগত রাতে শহিদ ধারালো দা দিয়ে ঘুমিয়ে থাকা চাচা-চাচিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করার পর কাজলীকেও হত্যা করে।

তবে এই ট্রিপল মার্ডারের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কিনা সে নিষয়ে কিছু জানায়নি পুলিশ।

এদিকে আমখোলা ইউনিয় পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, প্রকৃত আসামি ধরা পরায় আমারা সন্তুষ্ট, প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। অনেকদিন পরে হলেও মূল অপরাধী গ্রেফতার হয়েছে। এটা দেখে মানুষ শিক্ষা পাবে, অপরাধ করে পার পাওয়া যায় না। এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে, তা এখন জানা যাবে।

/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি