ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রজনন এলাকায় দূষিত তরল কোনও ক্যামিকেল নির্গত হয় এমন কোনও যান ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, এবারের প্রজনন মৌসুমে আমাদের নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, প্রশাসনিক সকল দফতর মাঠে থাকবে। আমি নিজেও মাঠে আছি। গভীর রাতে ফাঁকি দিয়ে নদীতে নামলে ধরা পড়লে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হবে। যে সাজা হতে পারে ন্যূনতম এক বছর।
ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ডিমওয়ালা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে নদী ঘুরে দেখেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে তিনি ঢাকা থেকে নৌবাহিনীর জাহাজযোগে চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মোহনপুর এলাকায় আসেন। পরে তিনি জাহাজে থেকেই নদীপাড়ে উপস্থিত জেলেসহ বিভিন্নস্তরের জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ইলিশ উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও যাতে বৃদ্ধি করা যায় সেজন্য ইলিশ প্রজননের এলাকাগুলোকে কোনভাবেই দূষিত তরল কোনও ক্যামিকেল নির্গত হয় এমন কোনও যান ঢুকতে দেবো না। সেখানে কোনোভাবেই কাউকে মাছ আহরণ করতে দেওয়া হবে না। শুধু তাই নয়, অন্য কোনোভাবে মাছের প্রজনন প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সেটিও আমরা এলাউ করবো না।
তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আমাদের ভূমিকা খুবই কঠোর হবে। ন্যূনতম কোনও স্লথ যদি আমাদের কেউ করে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। যদি কোনও নিয়ম ভঙ্গ কেউ করেন তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। মাছের উৎপাদনের এই বিপ্লবের ধারাকে আমরা অব্যাহত রাখবো।
তিনি বলেন, আমরা বাণিজ্যিকভাবে কোনও ইলিশ রফতানির পক্ষে নই। রাষ্ট্রীয় আচার অনুষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় সৌহার্দ্য রক্ষার ক্ষেত্রে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন রকমের আইটেমের আদান-প্রদান হয়।
মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম আরও বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে কোনস্তরের ইলিশ মাছ ধরা এবং বিক্রয় যাবে না। এই সময় মা ইলিশ ডিম ছাড়ে, বাচ্চা দেয়। একটি ইলিশ থেকে দেড় লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ পর্যন্ত বাচ্চা হতে পারে। এই সময়টা বাচ্চা দেওয়ার মৌসুম। এই সময়ে মা ইলিশের কোন বিঘ্ন যাতে না হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক গাজী শামছ আফরোজ, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ, নৌপুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মাহাবুবুর রহমান, মতলব উত্তর উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ কুদ্দুস, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকীসহ নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।








