ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে না নেওয়ায় এক গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন ও চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত ওই গৃহবধূকে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দিনাজপুর সদর উপজেলার ২নং ফাজিলপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুর থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নিজ বাসার সামনে গৃহবধূকে এই নির্যাতন করা হয় এবং মঙ্গলবার দিবাগত রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর স্বামী হানিফ মিয়া জানান, তিনি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় এক ইটভাটায় কর্মচারীর কাজ করেন। স্ত্রী এলাকায় থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার লাবু ভূঁইয়া, আশরাফ আলীসহ কয়েকজন তার স্ত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় গত মার্চ মাসের দিকে তারা বাড়িতে প্রবেশ করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যা তদন্তাধীন রয়েছে। এরপর থেকেই ওই ব্যক্তিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। এই মামলা তুলে না নেওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরে আবারও স্ত্রীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর, নির্যাতন ও চুল কেটে নেয় তারা।
প্রতিবেশী রাবেয়া খাতুন ও হেলাল উদ্দিন জানান, স্বামী বাসায় না থাকায় চলতি বছরের মার্চ মাসে লাবু ভুক্তভোগীর ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তার চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে লাবু পালিয়ে যায়।
নির্যাতিতা গৃহবধূ জানান, মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় লাবু ভূঁইয়া ও তার সহযোগী মধু ভুইয়া, আশরাফ আলী, জাহিদুল ইসলাম, হযরত আলী, মোবারক হোসেন, মোজাম্মেল হোসেন, মোশাররফ হোসেন ও তুষার হোসেন ঘরে প্রবেশ করে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। আমি এর প্রতিবাদ করলে তারা আমাকে আমার বাসার সামনের গাছে বেঁধে মারধর করে। মারধর করার সময় তারা আমার মাথা চুল কেটে দেয়। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কোতয়ালি থানায় খবর দেওয়া হলে সন্ধ্যায় এএসআই সাব্বির ঘটনাস্থলে এসে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থা থেকে আমাকে ছাড়িয়ে দিয়ে চলে যান। এলাকাবাসী রাতে আমাকে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
দিনাজপুর কোতয়ালি থানার পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান সরকার জানান, অভিযোগ দিলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








