বগুড়ার কাহালুতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ও বিপুল সংখ্যক চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শর্টগান দিয়ে ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে পুলিশের একজন এএসআইসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের পৌরমঞ্চে দ্বিতীয় অধিবেশনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
কাহালু থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগের গ্রুপিংয়ের কারণে এ ঘটনা ঘটে। জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাহীন এ হামলার জন্য উপজেলা যুবলীগের সভাপতি পিএম বেলাল ও লোকজনকে দায়ী করেছেন।
রাতে এ খবর পাঠানোর সময় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাহালু উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন শনিবার বিকাল ৩টার দিকে স্থানীয় পৌরমঞ্চে শুরু হয়। উদ্বোধন করেন, সংগঠনের জেলা সভাপতি সাজেদুর রহমান সাহীন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু প্রধান অতিথি ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগ কাহালু উপজেলার শাখার আহবায়ক সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু। বিশেষ অতিথি স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ম. আব্দুর রাজ্জাক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আসাদুর রহমান দুলু, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন নবাব,
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাহালু পৌরসভার মেয়র হেলাল উদ্দিন কবিরাজ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান বক্তব্য রাখেন। বিশেষ বক্তা ছিলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার রহমান শান্ত।
বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে দ্বিতীয় অধিবেশনে কমিটি গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়। ঘোষণার আগেই পদ পদবী নিয়ে হট্টগোল শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। চেয়ার ভাঙচুর ও রেললাইন থেকে এক পক্ষ অপর পক্ষের দিকে পাথর নিক্ষেপ শুরু করে।
কাহালু থানা পুলিশ মঞ্চ থেকে অতিথিদের উদ্ধার করে পৌর কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ করে। এতে কাজ না হওয়ায় শর্টগান দিয়ে ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করলে দু’পক্ষের লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাহীন জানান, কমিটি ঘোষণার আগেই উপজেলা যুবলীগের সভাপতি পিএম বেলালের নেতৃত্বে তার লোকজন হামলা চালায়। তারা গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি বৃষ্টির মতো পাথর নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তিনি বিষয়টি কেন্দ্রে অবহিত করেছেন এবং আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানান।
তবে পিএম বেলাল হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, এটা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দু’গ্রুপের বিরোধ। এছাড়া তিনি নিজেও পাথর লেগে আহত হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র হেলাল কবিরাজ ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এতে নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। হেলাল কবিরাজ তার পছন্দের বিএনপি থেকে আসা নেতা আলহাজ্ব রহিমকে সভাপতি করতে চাইলে তখন মান্নান গ্রুপের পক্ষে যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়।
কাহালু থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের কোন্দলের কারণে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে হামলা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শর্টগান দিয়ে ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করা হয়েছে। পিএম বেলাল গ্রুপের নিক্ষেপ করা পাথরের আঘাতে এএসআই মাসুদ রানা আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।








