নারায়ণগঞ্জে ফের বাড়ছে করোনা রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্ত নতুন আরও ১৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। কিন্তু সরকারি যে ঘোষণা ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’, তা বেশীরভাগ মানুষ মানছে না। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকাল ও সন্ধ্যায় শহরের সায়েম প্লাজা থেকে শহীদ মিনার ঘুরে দেখা যায় মাত্র কয়েকজনের মুখে মাস্ক রয়েছে। বাকিরা বেশিরভাগই মাস্ক ছাড়া ঘুরা-ফেরা করছেন।
এতেই বোঝা যায়, করোনা মোকাবিলায় সরকারের ঘোষণা বাস্তবায়নে কতটুকু সচেতন হয়েছেন মানুষ। করোনার প্রথম ধাক্কায় স্থানীয় প্রশাসন যে তৎপরতা দেখিয়েছিল, বর্তমানে তা রুটিন ওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। যদিও প্রশাসনের দাবি, করোনা মোকাবিলায় মানুষকে সচেতন করতে তাদের তৎপরতা অব্যহত আছে। ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ বাস্তবায়নে নিয়মিত মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করছেন তারা।
এদিকে করোনার প্রভাব যতই কমেছে মানুষ ততটাই সচেতনতা ছেড়ে আগের মতো চলাফেরা করছে। নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের অফিয়াল ওয়েবপেজে আপলোড করা তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরে জেলায় করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শনিবারের তথ্যানুযায়ী , করোনার লক্ষণ থাকায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১০০ জনের। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪ জন। সর্বমোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা সাত হাজার ২৪৩ জন, সুস্থ হয়েছেন ছয় হাজার ৯০৯ জন। জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৪৭ জন।
করোনা থেকে বাঁচতে মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে নগরীর সায়েম প্লাজা মার্কেটের সামনে কথা হয় শ্যামলী বেগমের সঙ্গে। মাস্ক ছাড়া কেন মার্কেটে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মাস্ক পড়ে চলাফেরা করতে গেলে দম বন্ধ লাগে। তাই মাস্ক ছাড়া মার্কেটে এসেছি, জরুরি কিছু কেনাকাটা করেই চলে যাবো।
শহীদ মিনারে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন সোহেল, রনি, জাহিদ, রাইসুলসহ বেশ কয়েকজন। কিন্তু তাদের কারও মুখেই মাস্ক নেই। সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা গাদাগাদি করে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন তারা। মুখে মাস্ক নেই কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তাদের সাফ জবাব ভাই মাস্ক পড়ে কী হবে? করোনা যদি আসে কেউ ঠেকাতে পারবে না। করোনার প্রভাব কম থাকায় একটু রিল্যাক্স মুডে আড্ডা দিচ্ছেন বলে জানান তারা।
খাজা মাকের্টের সামনে কথা হয় রবিউল ইসলাম নামে একজন বৃদ্ধের সঙ্গে। মাস্ক না আনার বিষয়ে তিনি বলেন, মাস্ক পরে সব সময়ে বাসা থেকে বের হই। কিন্তু আজ ভুল করে মাস্ক না নিয়ে বের হয়ে পড়েছি।
এ বিষয়ে জেলার সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগনকে সচেতন করার চেষ্টা চলছে। সরকারি ও বেসরকারি অফিস আদালত, মার্কেট, শপিং মল, ব্যাংক, বীমা কোম্পানিসহ সব জায়গায় সেবা নিতে মাস্ক পরে যেতে হবে। নয়তো সেবা দেওয়া হবে না। এ জন্য সবাইকে সিভিল সার্জন অফিস থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে, এটা সত্য। তবে দ্বিতীয় ঢেউ লেগেছে নারায়ণগঞ্জে এমনটা নয়। শীতের সময় করোনা পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন জানান, করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। তবে সেটি অস্বাভাবিক অবস্থায় যায়নি।
তিনি বলেন, রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। তবে মানুষকে সচেতন করতে তৎপরতা অব্যহত রয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধি করতে নিয়মিত মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করছে প্রশাসন। শীতকে সামনে রেখে মানুষকে সচেতন করতে মোবাইলকোর্টের সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
/টিটি/








