নরসিংদীতে জিন সেজে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা। সোমবার (৯ নভেম্বর) ভোরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার বীরগাঁও গ্রামের মৃত ইসমাইল মিয়ার ছেলে কথিত জিনের বাদশাহ সোনাম উদ্দিন (৮০) ও নরসিংদী সদর থানার পশ্চিম দত্তপাড়া মহল্লার আসাদ মিয়ার ছেলে সাদিকুর রহমান ওরফে সিদ্দিক (৪৪)।
নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক ও জেলা পুলিশ এর মিডিয়া সমন্বয়ক রুপণ কুমার সরকার সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ৩ অক্টোবর নরসিংদী শহরের সিঅ্যান্ডবি রোডের একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন ফারুক আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। এসময় সাদিকুর রহমান সিদ্দিক (প্রতারক) জানান ১৪ বছর মামলা চালিয়ে জায়গার কোনও হদিস পাননি, সেই মামলার কাগজ পেয়েছেন সোনাম উদ্দিন হুজুরের কাছে।
ফারুক আহমেদেরও জমিজমা নিয়ে বিরোধ থাকায় ছদ্মবেশী প্রতারক সিদ্দিকের কথা বিশ্বাস করেন এবং তার জমির সমস্যা প্রতারক সিদ্দিককে জানান। এসময় প্রতারক সিদ্দিক একটা মোবাইল নম্বরে ফোন করে সোনাম উদ্দিন হুজুরের সঙ্গে ফারুককে কথা বলায়। এসময় কথিত হুজুর ফারুক আহমেদকে সরাসরি যেতে বলেন। পরে ৪ অক্টোবর ফারুক আহমেদ প্রতারক সিদ্দিকের সঙ্গে মনোহরদীর বীরগাঁও এলাকায় কথিত জিনের বাদশা সোনাম উদ্দিনের কাছে যান। প্রতারক সোনাম উদ্দিন আলখাল্লা পোশাক পড়ে জিন সেজে কণ্ঠ নকল করে কথা বলেন এবং ফারুকের মনে বিশ্বাস স্থাপন করান।
জমি ও ভালো চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ধাপে ফারুকের থেকে জিনের বাদশাহ তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও কথামতো কাজ না হওয়ায় ফারুক আহমেদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে ৮ নভেম্বর এ ঘটনায় নরসিংদীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে তিনি মৌখিক অভিযোগ করেন। পরে ডিবির এসআই তাপস কান্তি রায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করেন এবং অভিযান পরিচালনা করে মনোহরদী থানাধীন বীরগাঁও থেকে কথিত জিনের বাদশা সোনাম উদ্দিন ও সাদিকুর রহমান ওরফে সিদ্দিককে গ্রেফতার করেন।
এসময় প্রতারকদের থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা, আংটি, পাথর, আলখাল্লা পোশাক উদ্ধার করা হয়। একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র জিনের বাদশা সেজে প্রতারণা করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জেলা পুলিশের কাছে অভিযোগ রয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।








