বগুড়ার কাহালুতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৬৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ঘটনার পাঁচ দিন পর বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) রাতে কাহালু থানায় মামলা করেন। এজাহারে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক পিএম বেলাল হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এজাহার সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, গত ৭ নভেম্বর বিকালে কাহালু পৌর মঞ্চে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় পর্বে সন্ধ্যার দিকে কমিটি ঘোষণার দাবি নিয়ে হাঙ্গামা শুরু হয়। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, চেয়ার ভাঙচুর, ৩-৪টি প্রাইভেট গাড়ি ভাঙচুর, ইটপাটকেল ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ শর্টগানের ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পাথরের আঘাতে থানার এএসআই মাসুদ রানাসহ ৫/৬ জন আহত হন। জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাহীন তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার জন্য উপজেলা যুবলীগের সভাপতি পিএম বেলাল হোসেন ও লোকজনকে দায়ী করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে যুবলীগ নেতা পিএম বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে আসামিরা রড, লাঠিসোটা, চাকু নিয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর করেন। রেললাইন থেকে তাদের ছোঁড়া পাথরে ৫/৬ জন আহত হয়েছেন। পিএম বেলালকে প্রধান আসামি করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৩ নেতাকর্মীর নামে ও আরও অজ্ঞাত ৪০/৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
কাহালু থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন কবিরাজ ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নানের মধ্যে কোন্দল ও কমিটিকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটে। এজাহার রেকর্ড করা হয়েছে; তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান জানান, বিএনপি থেকে অনুপ্রবেশকারী আলহাজ আবদুর রহিমকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি করার দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়। এতে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ত্যাগী নেতাকর্মীরা হট্টগোল করেছেন। নিজেদের মধ্যে সৃষ্ট ঘটনায় মামলা করা ঠিক হয়নি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র হেলাল উদ্দিন কবিরাজ জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিষয় নিয়ে তার কোনও মন্তব্য নেই। তবে হামলার ঘটনায় কেউ দোষী হলে সে শাস্তি পাবে।







