কুমিল্লা নগরীর হোল্ডিং ট্যাক্সের ক্ষোভ মন্ত্রণালয় পর্যন্ত পৌঁছেছে। অনেক ভুক্তভোগী মামলা করার জন্য তার কাছেও গিয়েছেন বলে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী (এলজিআরডি) তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, 'মানুষ আপনাকে রাজস্ব দেবে উন্নয়ন দেখে। আপনি ট্যাক্স নেবেন মানুষের কাছ থেকে, রাজস্ব আদায়ে ক্ষমতা দেখানোর জন্য বলা হয়নি। হোল্ডিং ট্যাক্স আমিও দিয়ে থাকি। তবে ট্যাক্স আদায়ের ক্ষেত্রে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।' প্রকল্প প্রণয়নে গরমিলের বিষয়ে মেয়রের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'দেশে দুর্নীতি আছে, তার অর্থ এই নয় যে দেশে এইভাবে কোনও পুকুরচুরির দরজা ওপেন করে দেওয়া আছে। এখানের প্রত্যেকটি টাকা সরকারের। ব্যবস্থাপনা বলে একটি কথা রয়েছে।'
কুমিল্লার মেয়র মনিরুল হক সাক্কুকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, 'আপনার সিটিতে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে এমনও অভিযোগ এসেছে যার একটি ঘর আছে তার ট্যাক্স ধরা হয়েছে ১৮শ’ টাকা। আবার যার ৪৮টি আছে ওই ব্যক্তির ট্যাক্স ধরা হয়েছে ৮শ টাকা। কুমিল্লার সিটি করপোরেশনের ট্যাক্স আদায় নিয়ে আমার কাছে প্রতিনিয়ত অভিযোগ আসছে। গত কয়েকদিন আগে একটি গ্রুপ গিয়েছে ট্যাক্স আদায়ের মামলা করা জন্য। কুমিল্লায় আদায়কৃত হোল্ডিং ট্যাক্স মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে।'
শনিবার (১৪ নভেম্বর) কুমিল্লা ক্লাব অডিটরিয়ামে ‘স্টার্ট আপ কুমিল্লা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এলজিআরডি মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মেয়রকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, 'কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের দুই মেয়াদেসহ টানা তিনবারের মেয়র হিসেবে আছেন আপনি। আমি তো দুই বছরেই আমার মন্ত্রণালয়কে পরিবর্তনে নিয়ে এসেছি। আপনাকে বললাম দেড় হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করার জন্য। আর আপনি ২৩শ' কোটি টাকার অপরিকল্পিত একটি প্রকল্প তৈরি করেছেন। কিন্তু গত এক বছরে কোনও প্রজেক্ট বাড়াতে পারেননি। তাহলে আমি কীভাবে এই অপরিকল্পিত প্রকল্পকে অনুমোদন দেবো।'
তিনি বলেন, 'সিটি মেয়র যে প্রকল্প নিয়ে গেছেন, সেটি যাচাই-বাছাই করার জন্য আমাদের একটি কমিটি রয়েছে। সেখানে আমিও থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার একটি জরুরি প্রোগ্রাম থাকায় সেখানে আমি থাকতে পারিনি। পরে আমি সচিবকে বললাম কুমিল্লার প্রকল্পটি দেখে আমাকে জানাবেন। নিয়ম না থাকলেও বলেছি কুমিল্লার মেয়রকে সঙ্গে রাখবেন, কোনও সংযোজন-বিয়োজন থাকলে তিনি বলতে পারবেন। প্রকল্পটি যাচাই করে দেখার পর সচিব আমাকে জানালেন, স্যার এটি কোনও প্রকল্পই হয়নি। কিছু কাগজপত্র দিয়ে একটি ফাইল বানানো হয়েছে। একখানে ২০ কোটি, আরেকখানে ১০০ আবার ৩০০ কোটি, সব মিলিয়ে ২৩শ' কোটি টাকার একটি প্রকল্প বানিয়ে দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে এটি কোনও প্রকল্পই নয়। দেশে দুর্নীতি আছে, তার অর্থ এই নয় যে দেশে এইভাবে কোনও পুকুরচুরির দরজা ওপেন করে দেওয়া আছে। এখানের প্রত্যেকটি টাকা সরকারের। ব্যবস্থাপনা বলে একটি কথা রয়েছে। এখানে আপনি এক পয়সাও জবাবদিহি ছাড়া মুক্তভাবে খরচ করতে পারেন না। কাজ দেখিয়ে তথ্যের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। তথ্য ছাড়া কোনও লুকোচুরি করার সুযোগ নেই।'
তিনি আরও বলেন, 'কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রজেক্ট বাড়ানো হয়নি গত দেড় বছর, আমার কাছে মানুষ অভিযোগ করছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের অনেক বিল্ডিং নির্মাণ হয়েছে। এই বিল্ডিংগুলো নির্মাণের জন্য কতটুকু রাস্তা রাখা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। শহরের উন্নয়নের জন্য দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে যদি কাজ না করেন, তাহলে ভবিষ্যতে মানুষকে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। তৈরি হবে ভোগান্তি। এই কুমিল্লাকে আপনি ভালোবাসেন, আমিও ভালোবাসি। কিন্তু এমন ভালোবাসার দরকার নেই যে ভালোবাসায় কুমিল্লার মৃত্যু হবে। বর্তমান কুমিল্লার রাস্তাঘাট লাগবে, আবাসন ভূমি ও একটি সুন্দর পরিবেশ লাগবে, যাতে কুমিল্লা তার অতীত ফিরে পায়।'
আইসিটি ডিভিশনের উদ্যোগে কুমিল্লা ক্লাব অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত স্টার্ট আপ কুমিল্লার গ্র্যান্ড ওপেনিং অনুষ্ঠানে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীরের সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার, আইসিটি ডিভিশনের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবীর চৌধুরী, আইসিটি বিভাগের আইডিয়া প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ মজিবুল হক।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত কুমিল্লার ৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী নতুন স্টার্ট-আপে উদ্যোক্তা হিসেবে অংশ নেন।








