১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর কিশোর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর টিটোর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই হানাদার মুক্ত হয় ঢাকার সাভার। তবে বিজয়ের ৪৯ বছর পরেও সেই বীর কিশোর মুক্তিযোদ্ধার সমাধিস্থলটি পড়ে আছে অযত্ন আর অবহেলায়। রবিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকালে সরেজমিন ডেইরি গেট এলাকায় সমাধিস্থলটির চারপাশে ধুলোবালি জমে থাকা অবহেলার চিত্রই দেখা যায়।
১৯৯৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর নবম পদাতিক ডিভিশনের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ডেইরি গেট সংলগ্ন এলাকায় শহীদ টিটোর সমাধির ফলক উন্মোচন করেন। এর পর থেকে এই কিশোর মুক্তিযাদ্ধার এই সমাধির ব্যাপারে কোনও খোঁজ নেই স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাসহ সংশ্লিষ্টদের। তবে গত কয়েক বছর যাবৎ স্থানীয় সাংবাদিকরা এই দিনে টিটোর সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছেন।
স্থানীয় সংবাদিক মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘কিশোর মুক্তিযোদ্ধা টিটোর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই সাভার হানাদার মুক্ত হয়। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় বিজয়ের ৪৯ বছরেও উপজেলা প্রশাসন কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হানাদার মুক্ত দিবস পালনে কোনও উদ্যোগ নেই।’
১৯৭১ সালে সাভারে বিভিন্ন সময় খণ্ড খণ্ড যুদ্ধ সংঘঠিত হয়েছে। ঢাকার প্রবেশমুখ হওয়ায় সব সময় পাক হানাদারদের চলাচল ছিল। তাই প্রায়ই পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তেন মুক্তিযোদ্ধারা।
সর্বশেষ আশুলিয়ার গঙ্গারবাগ (বর্তমান ঘোষবাগ) এলাকায় পাক হানাদারদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখযুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে মানিকগঞ্জের কিশোর গোলাম দস্তগীর টিটো অংশ নেন। প্রায় কয়েক ঘণ্টা যুদ্ধের পর পাক বাহিনী পালাতে থাকে। বিজয় নিশ্চিত জেনে আবেগাপ্লুত হয়ে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা টিটো লাফিয়ে উঠলে পলায়নরত পাক হানাদার বাহিনীর ছোড়া গুলিতে শহীদ হন তিনি। আর এভাবেই টিটোর শাহাদাতবরণের মধ্যে দিয়ে সাভার হানাদার মুক্ত হয়। এরপর ১৪ ডিসেম্বর সাভার হানাদার মুক্ত ঘোষণা করা হয়।








