নোয়াখালীর হাতিয়ার মেঘনা নদীতে বর যাত্রীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাত শিশুসহ আট জন নিখোঁজ রয়েছে। এর আগে, ঘটনার পর লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার ট্যাংকির ঘাট এলাকা থেকে নববধূ, তিন নারী ও তিন শিশুসহ সাত জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে ট্রলারডুবির ঘটনায় এখনও আট জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খবর নেওয়া হচ্ছে।
নিখোঁজরা হলেন, হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের আল আমিন গ্রামের নাসির উদ্দিনের স্ত্রী জাকিয়া বেগম (৫৫), একই গ্রামের মো. কাদেরের ছেলে মোহাম্মদ হাছান (৭) ও মেয়ে নারগিস বেগম (৪), রুবেল হোসেনের মেয়ে হালিমা (৪), পূর্ব আজিমপুর গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে নিহা বেগম (১), বয়ারচর গ্রামের ইলিয়াছ উদ্দিনের ছেলে আমির হোসেন (২), ভোলার মনপুরার কলাতলী গ্রামের মহিন উদ্দিনের মেয়ে লামিয়া বেগম (৩) ও একই গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে আলিফ উদ্দিন (১)।
দুর্ঘটনায় উপজেলার চানন্দি ইউনিয়নের আল আমিন গ্রামের ইব্রাহিম সওদাগরের মেয়ে ও কনে তাসলিমা বেগম (২১), নোয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর গ্রামের আকবর হোসেনের মেয়ে আফরিন আক্তার লামিয়া (২), একই গ্রামের আলমগীরের মেয়ে লিলি আক্তার (৮) ও আক্তার হোসেনের মেয়ে আছমা বেগম (১৯), হাতিয়ার কেরিংচরের নাছিরপুর গ্রামের কালাদুর বাজার এর ফয়েজ উল্যাহর মেয়ে হোসনে আরা বেগম রুপা (৫), পূর্ব আজিম নগর গ্রামের আলা উদ্দিনের স্ত্রী রাহেনা বেগম (৩০) ও একই গ্রামের খোরশেদ আলমের স্ত্রী নূরজাহানের (৬৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, ট্রলারডুবির পর যাত্রীদের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে আট জন নিখোঁজের বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। নিখোঁজদের সন্ধানে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করছে। এছাড়া, নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নিখোঁজদের মধ্যে কারও লাশ পাওয়া গেলে ওই পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নৌ-পুলিশের ইনচার্জ আকরাম উল্লাহ জানান, দুর্ঘটনার পরপরই হাতিয়ার নৌ-পুলিশ, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযানে নামে। তবে সন্ধ্যা নেমে আসায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখা হয়। আজ সকাল থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুরে ভোলার মনপুরা উপজেলার কলাতলী গ্রামের বেলাল মিস্ত্রির ছেলে ফরিদ উদ্দিন বিয়ে করতে হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নে আসে। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর বর ও কনেসহ উভয়পক্ষের ৪০-৪৫ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারযোগে শান্তির বাজার ঘাট থেকে ভোলা জেলার মনপুরার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। পথে মেঘনা নদীর ট্যাংকিরখাল-ঘাসিয়ারচরের মাঝামাঝি এলাকায় তীব্র স্রোতের কবলে পড়লে, তাদের ট্রলারটি উল্টে যায়। এসময় কয়েকজন সাঁতার কেটে ও মাছ ধরার নৌকার জেলেদের সহায়তায় তীরে উঠে আসে। পরে, স্থানীয়দের সহায়তায় ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজন, পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ট্রলার ও নৌকার মাধ্যমে রাত পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বরসহ কয়েকজনকে জীবিত এবং নববধূ, তিন নারী ও তিন শিশুসহ সাত জনের লাশ উদ্ধার করে।








