টাঙ্গাইলে বাড়ছে শীতের প্রকোপ। আর এই শীতে অসংখ্য মানুষ অসুস্থতায় ভুগছেন। নানা অসুস্থতা নিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন রোগীরা। কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে তারা পড়ছেন বিড়ম্বনায়। চিকিৎসককে কাছ থেকে অসুস্থতার কথা জানাতেও পারছেন না তারা। এ হাসপাতালে রোগী দেখা হচ্ছে দূর থেকে। এমনটাই অভিযোগ চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের।
ভুক্তভোগীরা জানান, করোনার শুরু থেকেই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আউটডোরের রোগীদের দূর থেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল কক্ষের দরজার সামনে স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ডেস্ক ও রশি টানিয়ে রোগী দেখছেন চিকিৎসকরা। দূর থেকে রোগী দেখার কারণে উচ্চস্বরে রোগীদের কথা বলতে হচ্ছে চিকিৎসকের সঙ্গে। এতে করে হাসপাতালে ব্যাপক শব্দের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, রোগীরা তাদের অসুস্থতার কথা ঠিকমতো চিকিৎসকের কাছে বলতেও পারছেন না। রোগীর গোপনীয়তাও থাকছে না। ফলে প্রতিনিয়ত রোগীদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে ।
চিকিৎসা নিতে আসা টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ছিলিমপুর গ্রামের সখিনা বেগম, পোড়াবাড়ীর সুফিয়া বেগম ও দেলদুয়ার উপজেলার ফরিদা বেগমসহ আরও অনেকের সঙ্গে সম্প্রতি হাসপাতালে কথা হয়। তারা জানান, টিকেট কেটে লাইনে দাঁড়িয়ে হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে হয়। ডাক্তারের কাছে যাওয়া যায় না। প্লাস্টিকের পর্দা ও রশি টানিয়ে ডাক্তাররা রোগী দেখেন। দূর থেকে রোগী দেখার কারণে চিৎকার করে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে হয়। সব কথা বলাও যায় না। দূর থেকে রোগী দেখার কারণে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে কিনা সেটারও সন্দেহ থেকে যায়। তারা আগে মতো করেই স্বাভাবিকভাবে রোগী দেখার দাবি জানান।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সদর উদ্দিন বলেন, ‘শীতের প্রকোপের কারণে এখনও রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে বাড়েনি। আগের মতোই রোগী স্বাভাবিক রয়েছে। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে রোগী দেখার নির্দেশনা রয়েছে। যে রোগী কাছ থেকে দেখার প্রয়োজন, তাকে কাছ থেকেই দেখা হয়। কোনও রোগী ডাক্তারের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে প্রটেকশন নিয়ে ডাক্তার রোগী দেখেন। নরমাল রোগীকে দূর থেকেই দেখা হয়।’








