বগুড়ার শাজাহানপুরে পাখি ধরার নামে ডেকে নিয়ে পারভেজ মোশাররফ বাপ্পী (১৪) নামে এক কিশোরকে পেছন থেকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার রাতে উপজেলার খরনা ইউনিয়নের গয়নাকুড়ি গ্রামে এ ঘটনার সময় তার বন্ধু সাহেব আলী (১৭) ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছে। হামলাকারীরা বোরখা পরিহিত ছিল।
শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন এ তথ্য দিয়েছেন।
তিনি জানান, ক্লু উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে কাজ চলছে। মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত মামলা হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বাপ্পী শাজাহানপুর উপজেলার গয়নাকুড়ি গ্রামের মোকছেদ আলী ড্রাইভারের ছেলে। সে মাঝিরা সেনানিবাসের এক অফিসারের বাড়িতে ব্যাগম্যান হিসেবে কাজ করতো। গত ১০-১২ দিন আগে সে বাড়িতে আসে। বাপ্পী প্রতিরাতে অতিথি পাখি শিকারে বের হতো। সোমবার রাত ১১টার দিকে কে বা কারা ফোনে তাকে পাখি ও মাছ ধরার জন্য ডাক দেয়। বাপ্পী তার বন্ধু একই গ্রামের
আহম্মদ আলীর ছেলে সাহেব আলীকে সাথে নিয়ে গ্রামের একটি ফাঁকা মাঠে যায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাপ্পীর ঘাড়ের পিছন থেকে গলা কেটে ফেলা হয়। ছুরিকাঘাতে আহত সাহেব আলী দৌড়ে পালিয়ে আসে ও বাপ্পীর বাড়িতে দিয়ে খবর দেয়। পরিবারের সদস্যরা বাপ্পী ও সাহেব আলীকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক বাপ্পীকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাহেব আলী পুলিশ ও অন্যদের জানায়, মাঠে বোরকা পরিহিত তিনজন তাদের ছুরিকাঘাত করে। গ্রামবাসীরা এ ঘটনায় সাহেব আলী জড়িত আছে বলে সন্দেহ করছেন।
শাজাহানপুর থানার এসআই আবদুর রাজ্জাক জানান, হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদ্ঘাটনে কাজ চলছে। নিহতের পরিবার এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারছেন না। প্রয়োজনে আহত সাহেব আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ঘাতকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ওসি আজিম উদ্দিন জানান, নিহত কিশোরের লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এ হত্যাকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি। হামলাকারীদের গ্রেফতারে কাজ চলছে।








