অবশেষে চাকমা কিশোরী লাকিংমে চাকমার (১৫) মরদেহ হস্তান্তর করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আদালতের নির্দেশে সোমবার (৪ জানুয়ারি) মৃতদেহ নিতে লাকিংমে’র বাবা লালা অং চাকমা হাসপাতাল মর্গে এলেও মর্গের বিলের ২৪ হাজার টাকা দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে দুপুর পর্যন্ত লাশের জন্যঅপেক্ষা করেন তিনি। পরে দুপুরে মর্গের বিল দিতে সম্মত হয় এই ঘটনার তদন্ত সংস্থা র্যাব-১৫। এরপর বিকেলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে রামুর কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় কিশোরীর লাশ। সেখানে শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার কথা।
জানা গেছে, বাবা ও স্বামীর পরিবারের দ্বন্দ্বের কারণে আইনি জটিলতায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হিমঘরে ২৬ দিন ধরে পড়েছিল লাকিংমে চাকমার মরদেহ। এই কিশোরী টেকনাফ উপজেলার সমুদ্র উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়ার দক্ষিণ শিলখালী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে গত বছরের ১৭ জানুয়ারি কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। তারপর কেটে গেছে গেছে প্রায় ১১ মাস। এ সময় মেয়েকে হন্যে হয়ে খুঁজেছেন বাবা। অবশেষে গত ৯ ডিসেম্বর মেয়ে লাকিংমে চাকমার খোঁজ পান। তবে জীবিত নয়, মৃত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে।
র্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক অর্জুন চৌধুরী বলেন, যেহেতু মেয়েটির বয়স ১৫ বছর সেহেতু তার ধর্মান্তরিত হওয়া বা বিয়ে উভয় বিষয়ই আইনগত ভাবে অবৈধ। তাই তার লাশ বাবা লালা অং চাকমার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
লাকিংমে চাকমার বাবার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন খান বলেন, এখন আসামিদের গ্রেফতার এবং অপহরণ মামলাটি তদন্ত করার দাবি তাদের। পাশাপাশি এসব পাষন্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়ে যাবো।
বাবা লালা অং চাকমার দাবি, ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি তার মেয়ে লাকিংমে কে স্থানীয় যুবক আতাউল্লাহর নেতৃত্বে কয়েকজন অপহরণ করে। অবশেষে গত ৯ ডিসেম্বর মেয়ের খোঁজ পান তিনি। তবে দুর্ভাগ্য, জীবিত নয় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে দেখলেন কন্যার নিথর দেহ। জোর করে বিয়ে করে হত্যা করা হয়েছে তাকে। এখন মেয়ে হত্যার বিচার চান তিনি।
অন্যদিকে, স্বামী দাবিদার আতাউল্লাহর দাবি, অপহরণ নয়, স্বেচ্ছায় তারা বিয়ে করেছেন। বিয়ের আগে লাকিংমে ধর্মান্তরিত হন। তার (লাকিংমে’র) বর্তমান নাম হালিমাতুল সাদিয়া। সামান্য কথা-কাটাকাটির জের ধরে সাদিয়া বিষপান করে। মারা যাওয়ার ১২ দিন আগে সাদিয়া একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দিয়েছে।
কক্সবাজারের একটি আদালত নিহত কিশোরীর ধর্মান্তকরণ এবং অপহরণের ঘটনা তদন্ত করতে দায়িত্ব দেন র্যাবকে। আদালতের নির্দেশে র্যাব-১৫ রবিবার আদালতে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দেয়। র্যাবের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত রবিবার লাকিংমের মরদেহ শেষ পর্যন্ত বাবার জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন।









