বগুড়ায় শুক্রবার উৎসবমুখর পরিবেশে স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে। বছরের প্রথম দিন হাতে নতুন বই পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা। এদিকে কিছু কিছু বিদ্যালয়ে টাকা নিয়ে বই দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার সকালে শহরতলির চাঁদমুহা সরলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বই বিতরণের আগে প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম সেশন ফি ও পাঠাগার ফি বাবদ ২২০ টাকা করে আদায় করেন। এতে অভিভাবকদের মাঝে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সহকারি প্রধান শিক্ষক আবুবক্কর সিদ্দিক জানান, বইয়ের জন্য নয়; ৩/৪ জন শিক্ষার্থীর কাছে পাঠাগার ফি ২০ টাকা ও সেশন ফি ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছিল। অভিভাবকরা আপত্তি করায় তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শাজাহানপুরের গোহাইল শালিকা দাখিল মাদ্রাসায় বই বিতরণের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে স্কাউট ও ক্রীড়া ফির নামে ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসার সুপার আবদুর রাজ্জাক জানান, তারা কোনও টাকা নেননি। পার্শ্ববর্তী গোহাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে। ওই মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী হালিমা টাকার রশিদ দেখিয়ে জানায়, তার কাছে ১০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র সরকার বলেন, কোনও প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যের বই বিতরণের বিনিময়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বগুড়া জিলা স্কুল মিলনায়তনে বই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন।
জেলা প্রশাসক ছাত্রছাত্রীর হাতে বই তুলে দিয়ে বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। নতুন বই হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দ-উল্লাস করে। হৈ চৈ করতে করতে বাড়িতে ফেরে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র সরকার জানান, এবতেদায়ি, দাখিল, মাধ্যমিক, এসএসসি ভোকেশনাল, দাখিল ভোকেশনাল মাধ্যমিক ইংরেজি ভার্সনের ৯৫৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ৪৯ লাখ ১৭ হাজার ৩৬০ পিস বই বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসেন আলী জানান, এবার জেলার এক হাজার ৫৬৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুই হাজার ৪৫০ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ২০ লাখ পিস বই বিতরণ শুরু হয়েছে।
/আরএ/এআর/








