যশোর শহরের ঘোপ বেলতলা বউবাজার এলাকায় পারভেজ (৩২) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা কেউ মুখ খুলছেন না। তবে, পারভেজ যে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা করছিলেন সেই শফিকুল ইসলাম সোহাগের দাবি, তাকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এর দুইদিন পরই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
অবশ্য, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষ প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর মোকসিমুল বারী অপু।
পুলিশ বলছে, হত্যার ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, নির্বাচনকেন্দ্রিক যে অভিযোগ তা খতিয়ে দেখা হবে।
নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পারভেজ যশোর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম সোহাগের প্রচারণা করছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রচারণা চালিয়ে বউবাজার এলাকার বাদল মোল্লার চায়ের দোকানে গিয়ে বসেন তিনি। এসময় সেখানে চারজনের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা ধাওয়া দেয় সোহাগকে। সোহাগ আত্মরক্ষার জন্য দৌড়াতে থাকলে তাকে তসিলমের বাড়ির সামনে ধরে ফেলে ওই চারজন কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা উৎসুক হয়ে ক্রাইম সিন দেখতে এলেও হত্যার বিষয়ে কেউ মুখ খুলছে না।
পারভেজ যে চা দোকানে চা পান করছিলেন সেই দোকানের মালিক বাদল মোল্লা জানান, মঙ্গলবার এশার আযানের কিছু সময় পর পারভেজ তার দোকানে এসে চা পান করে। এরপর চলে যায়। চলে যাওয়ার পাঁচ মিনিট পর শুনতে পান সে খুন হয়েছে। এরপর পুরো এলাকায় হইচই পড়ে যায়। পুলিশের ১০/১২টি গাড়ি আসে। আতঙ্কে দোকান বন্ধ করে চলে যাই।
তিনি বলেন, পারভেজের সাথে কারো কোনও গোলযোগ তার দোকানের সামনে হয়নি। তবে তার দোকানের পাশে দুই তিন দিন আগে কাউন্সিলর প্রার্থী সোহাগের নির্বাচনি অফিস খোলা হয়েছে। পারভেজ সেখানে ওঠাবসা করতো।
স্থানীয় কয়েকজন নারী ও পুরুষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এভাবে কেউ কাউকে মারতে পারে? নান্টু, নূরুল, রকিসহ বেশ কয়েকজন পারভেজকে ধাওয়া করে নিয়ে যায়। তসলিমের বাড়ির সামনে পৌঁছুলে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। পুলিশ ঘটনার পরপরই তসলিমের বাড়ির লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে। আজ দুপুর পর্যন্ত তারা বাড়িতে ফেরেনি।’
এদিকে, পারভেজ হত্যার পর তার মরদেহ দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন কাউন্সিলর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম সোহাগ। মঙ্গলবার রাতেই তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল শয্যায় তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান কাউন্সিলর মোকসিমুল বারী অপু তাকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বলেন। এর দুইদিন পরই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পারভেজকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে। ধাওয়া দিয়ে ওকে কুপিয়ে মেরেছে।
অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষ প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর মোকসিমুল বারী অপু। তিনি বলেন, প্রশ্নই ওঠে না। আমি তাকে বসে যেতে বলবো কেন? বরং তার পক্ষ থেকে আমার কাছে প্রস্তাব আসছে যে আপনি যদি ওকে বসে যেতে বলেন তাহলে ও বসে যাবে। আমি প্রতি উত্তরে সেই ব্যক্তিকে বলেছিলাম যে, আমার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির উটপাখি মার্কার মালিক। সোহাগ তো আমার প্রতিপক্ষ না। ও ভোট করছে ওর মতো। আমি আমার মতো ভোট করি। এটুকুই কথা। আর একটা বিষয় হচ্ছে, যে মার্ডার হয়েছে তাকে সামনা-সামনি দেখে চিনতে পারি। কিন্তু আমি তার নাম কোনোদিন শুনিনি। আর যারা মার্ডার করেছে, তাদের আমি চিনি না বা জানি না।
তিনি আরও বলেন, আমি জীবনে কোনোদিন কাউকে একটা থাপ্পড় মারতেও নির্দেশ দেইনি। হত্যা তো দূরের কথা। বরং এরকম ষড়যন্ত্র আমার বিরুদ্ধে বহু হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় সৎপথে চলেছি, আল্লাহ আমাকে সব ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত করেছে।
এদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা তোতা মিয়া বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি তিন আসামি অজ্ঞাত পরিচয়ের।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে. পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে, নির্বাচন বা রাজনীতি নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখা হবে। এ ঘটনায় দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।









