যশোরের মণিরামপুরে মাদ্রাসাছাত্র মামুন হাসানের (২২) খুনিদের ফাঁসির দাবি করেছেন নিহতের মা ছকিনা বেগম। শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে মণিরামপুর উপজেলার সোহবারমোড়-চাঁচড়া সড়কে (ভাটার সামনে) মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পার হলেও ঘটনার মূলহোতা সিরাজ, আনিছ মেম্বাররা এখনও গ্রেফতার হয়নি। তিনি তার সন্তানের খুনিদের ফাঁসি দাবি করেন।
মানববন্ধনে স্থানীয়দের সঙ্গে নিহত মামুনের বাবা মশিয়ার রহমান ও বোন লিমা খাতুনও অংশ নেন। খুনিদের ফাঁসির দাবিতে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী।
ছেলের খুনের বিচারের দাবি সম্বলিত ফেস্টুন হাতে ধরে রাখেন ছকিনা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেরে ওরা ডেকে নিয়ে মেরে ফেলেছে। খুনিদের বিচার চাই।’ কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মামুনের বাবা মশিয়ার গাজী বলেন, ‘ওই রাতে আনিছুর মেম্বার উপস্থিত থেকে আমার ছেলেরে মারাইছে। মেম্বার বলেছে, সকাল হলি মামুনরে ইটভাটায় জ্বালিয়ে দেবে।’
স্বজনরা জানান, সিরাজ ও আনিছুর মেম্বার তাদের ‘রক্ত দিয়ে গোসল’ করার হুমকি দিচ্ছে। তাদের এলাকাছাড়া করারও হুমকি দিচ্ছে।
গত মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত ১১ টা থেকে ৩টা পর্যন্ত উপজেলার খোজালিপুর গ্রামের মাঝেরপাড়ায় মামুনকে হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ওই এলাকার সিরাজ, আনিছুর মেম্বর, ফারুক, লাভলু, সোহাগ, আলতাফসহ অনেকে এই নির্যাতনে অংশ নেয়। মোবাইল ফোন চোর সন্দেহে তাকে প্রায় চার ঘণ্টা নির্যাতন করে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ফেলে রাখা হয়। মামুনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে চাইলে বাধা দেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আনিছুর রহমান। পরদিন সকালে পুলিশ নিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করে মণিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন তার মা-বাবা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকালে মারা যান মামুন।
মামুন হাসান উপজেলার খোজালিপুর গ্রামের মশিয়ার গাজীর ছেলে। তিনি মণিরামপুর আলিয়া মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
মামুন হত্যার ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে।
আরও পড়ুন-









