সুর্য উঠতে দেড় ঘণ্টা বাকি। ঘড়ির কাঁটা ভো
র পাঁচটা পেরিয়ে এগোচ্ছে এক-দুই করে। চারিদিকে সুনসান নিরবতা। বাংলা ট্রিবিউনের সংবাদকর্মীরা কাজ করছিলেন নিবিষ্ট মনে। পাঁচটা বেজে সাত মিনিট। হঠাৎ ঝাঁকুনি। পুরো ভবন দুলছে। অফিসের ভেতরের বিভিন্ন কাঁচের দরজা, ডেস্ক সবই দুলছে। দৌড়ে ভবনের পিলারের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন একজন। এদিক-ওদিক তাকালেন। ঝাঁকুনি কিছুটা কমে আসার পর ডেস্কে গিয়ে তিনি মোবাইল ফোন ও জ্যাকেট নিয়ে দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন। অফিসের অন্য কর্মীরাও দ্রুত নেমে পড়েন রাস্তায়।
রবিবার ভোরের এই ঝাঁকুনি পুরো নগরবাসীকেই চরম আতঙ্কিত করে তোলে।
মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শাহনাজ শারমীন বলেন, ‘খাট, শো-কেস, ফ্রিজ, টেবিল সব থরথর করে কাঁপছিল। কিভাবে ঘুম থেকে উঠলাম জানি না। ছোট বাচ্চাটাকে নিয়ে চিৎকার দিয়ে দৌড় দিলাম। দরজা খুললাম। এক দৌড়ে নিচে গেলাম। অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজনও হুড়মুড় করে বের হয়ে আসে। নিচে গিয়ে দেখি গেট বন্ধ। তখন ভয়ে আরও জোরে চিৎকার দেই। মনে হলো এই বুঝি শেষ। মনে হচ্ছিল আর কারও সঙ্গে দেখা হবে না।’
মিরপুরের টোলারবাগের স্টাফ কোয়ার্টারে ভাড়া থাকেন স্কুল শিক্ষিকা আইরিন নাহার। তিনি বলেন, ‘পায়ের স্যান্ডেল ও চাদর ছেড়ে এক দৌড়ে নিচে এসেছি। কিভাবে যে কাঁপছিল বলে বুঝাতে পারবো না। জীবনে এমন অভিজ্ঞতা আর হয়নি।’
/জেইউ/এফএ/








