রাজশাহীর কিছু কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও কিছু এলাকায় ধূলিঝড় হয়েছে। রবিবার (৪ এপ্রিল) বিকাল ৩টার দিকে হঠাৎ করেই আকাশ অন্ধকার হয়ে আসে। সাড়ে তিনটার দিকে পুঠিয়ায় শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। এতে আম ও ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে রাজশাহী শহরে হয়েছে ধূলিঝড়। ঝড়ে উপড়ে গেছে শহরের কাশিয়াডাঙ্গা-বহরমপুর বাইপাস সড়কে স্থাপন করা দৃষ্টি নন্দন প্রজাপতি বাতি।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক এসএম রেজওয়ানুল হক বলেন, মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড় এটি। ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে পুঠিয়া ও বাঘায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এই কালবৈশাখীতে রাজশাহী নগরীতে বেশ কয়েকটি বিলবোর্ড পড়ে গেছে। রাজশাহী বাসস্ট্যান্ডের সামনে একটি বিলবোর্ড পড়ে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ঝড়ো হাওয়ার কারণে আমের গুটি পড়েছে।
রাজশাহী কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এই ঝড় তেমন ক্ষতি হওয়ার কারণ নেই। কারণ, একটি গাছে যে পরিমাণের আম ধরেছে, সেগুলোই থাকে না। গাছের ধারণ ক্ষমতার বাইরের আমগুলো ঝরে যায়।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কেজেএম আবদুল আওয়াল বলেন, পুঠিয়া ও বাঘায় হালকা শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এই ঝড়ো বাতাসে ফসলের ক্ষতি হয়। কারণ, গম, মসুর, খেসারি জমিতে নেই। শুধু আছে বোরো ধান। আর যে এলাকায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে সেই এলাকায় বোরো ধান নেই। তারপরেও ক্ষতির বিষয়টি অনুসন্ধানের পরেই জানা যাবে।
পুঠিয়ার আমচাষি সিরাজুল ইসলাম জানান, শুধু বৃষ্টি হলে আমের উপকার হতো। কিন্তু বৃষ্টির সঙ্গে প্রচণ্ড শিলা ঝরেছে। এতে আমের ক্ষতি হবে।
শিলাবৃষ্টিতে রাজশাহীর বাঘায় আম ও ধানের ক্ষতি হয়েছে। এই বৃষ্টিতে কিছু কিছু করা আবাদে উপকারও হয়েছে। ইতোমধ্যে চাষিরা জমিতে তিল, কালাই, পাট, ভুট্টার আবাদ করেছেন। এসব জমিতে পানিরও দরকার ছিল। তবে কিছু আবাদে ক্ষতি হলেও উপকারও হয়েছে।
এ বিষয়ে আড়ানীর আম চাষি নওশাদ আলী বলেন, আম মোটর দানার মতো হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে অন্যান্য আবাদের উপকার হয়েছে।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, আম ও ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ বেশি না। সোমবার এলাকায় জরিপ করে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হবে।
এই ঝড়েই রাজশাহী শহরে সড়কবাতির খুঁটি পড়ে গেছে। ও প্রসঙ্গে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ ও যান্ত্রিক) রেয়াজাত হোসেন রিটু বলেন, ঝড়ের কারণে খুঁটিগুলো হেলে পড়েছে। কিছু পড়ে গেছে। আমাদের ওয়ারেন্টির সময় আছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্ব আবার সব ঠিক করে দেবো।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হ্যারো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী আশরাফুল হুদা টিটো বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। আমাদের এক বছরের ওয়ারেন্টির মেয়াদ আছে। প্রয়োজনে পাঁচ বছর দেবো। আর ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটিগুলো রাতের মধ্যেই ঠিক করে দেওয়া হবে।’









