রাজশাহীর বাগমারায় আহমদীয়া মসজিদ ও চট্টগ্রামের নৌবাহিনীর মসজিদে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে পুলিশ।ঘটনা দু’টি একই চক্রের কাজ বলেও তথ্য পেয়েছেন তদন্তে সংশ্লিষ্টরা।বিষয়টি নিশ্চিত হতে রাজশাহী থেকে চট্টগ্রাম গেছেন কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা।নৌবাহিনী মসজিদে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন তারা।এতে আহমদিয়া মসজিদে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত যুবকের পরিচয়ও জানা যাবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। অন্যদিকে,গাজীপুরে র্যাবের অভিযানে নিহত দুই জঙ্গির পরিচয়ের বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি র্যাব-পুলিশ।দু’টি ঘটনায় নিহত তিনজনকেই আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর সংরক্ষিত এলাকার ইশা খাঁ ঘাঁটি ও হাসপাতাল সংলগ্ন দু’টি মসজিদে জুমার নামাজের সময়ে দুটি বোমার বিস্ফোরণ হয়।এতে কয়েকজন মুসল্লি আহত হন।ঘটনার পরপরই মুসল্লিরা অবিস্ফোরিত তিনটি বোমাসহ দু’জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।তাদের একজন রমজান ও অন্যজনের নাম মান্নান।এর কয়েকদিন পর ২৫ ডিসেম্বর রাজশাহীর বাগমারার মচমইল এলাকার চকপাড়ায় আহমদিয়া মুসলিম জামাতের মসজিদে বোমার বিস্ফোরণ হয়।এ ঘটনায় বোমা বহনকারী যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।আহত হন অন্তত:২০ জন।
তবে চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর মসজিদে ও আহমদিয়া মসজিদে বোমা হামলাকারীদের ব্যাপারে এখনই বিস্তারিত বলতে রাজি হননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।দু’টি ঘটনার মধ্যে একটা যোগসূত্র আঁচ করতে পেরে রাজশাহীর বাগমারা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ এখন চট্টগ্রামে রয়েছেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। তদন্ত চালাতে গিয়ে বিভিন্ন সূত্র থেকে যেসব তথ্য পাচ্ছি সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছি।’
ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে আরও জানান,‘বাগমারায় আহমদিয়া মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে নিহত যুবকের পরিচয় তারা এখনও পাননি।সেটা জানার চেষ্টা করছেন।বাগমারার ঘটনার সঙ্গে চট্টগ্রামের ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখতেই তিনি চট্টগ্রামে গেছেন।তবে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের হাতে পাননি তিনি।
এদিকে গাজীপুরের বাইপাস সড়কের যোগীতলা এলাকায় র্যাবের অভিযানে নিহত দু’জনের পরিচয় সম্পর্কেও পুলিশ ও র্যাব এখনও কোনও তথ্য দিতে পারেননি। নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চেষ্টা চলছে।তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, নিহত দুই জঙ্গি মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জের জেএমবির সদস্য হেলাল ও রুবেল। কিন্তু এ তথ্যটি দায়িত্বশীল কোনও সূত্র নিশ্চিত করেননি।
গত অক্টোবরে চট্টগ্রামে আটক জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান জাবেদ গ্রেনেড বিস্ফোরণে নিহত হন।পরে তার আস্তানা থেকে বিপুলসংখ্যক বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।গাজীপুরে নিহত জঙ্গিদের আস্তানা থেকেও একই ধরনের বোমা,গ্রেনেড ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেন র্যাব কর্মকর্তারা।এ জঙ্গি চক্রটিই ঢাকায় পুলিশ হত্যা ছাড়াও বিভিন্ন নাশকতায় সম্পৃক্ত ছিলো বলে নিশ্চিত হন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।
/জেইউ/এমএসএম/
আপ-এমপি








