কালকিনির স্থগিত দুটি কেন্দ্রে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রার্থীদের সংশয়

মাদারীপুর প্রতিনিধি
১০ জানুয়ারি ২০১৬, ২০:৫৫আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৬, ২০:৫৯

মাদারীপুরে স্থগিত হওয়া কালকিনি পৌরসভার ২টি কেন্দ্রে এবারও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ভোটে এগিয়ে থাকা স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজ। তবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এনায়েত হোসেনের দাবি স্থগিত কেন্দ্র দুটি তার নিজের এলাকায় হওয়ায় তিনিই বিজয়ী হবেন। এদিকে প্রশাসনের কাছে শান্তিপূর্ণ ভোটের দাবি জানিয়েছেন এলাকার ভোটাররা। ১২ জানুয়ারি এই দুটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

poro-nirbachonসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচনের সময় কেন্দ্র দুটিতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও আরেক জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে থাকবে র‌্যাবের ২টি মোবাইল টিম। প্রতিটি কেন্দ্রে ৪ জন কর্মকর্তা ও ১০ জন করে পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর সদস্য থাকবেন। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য থাকবেন একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এমনকি সরাসরি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দু’জন বিশেষ পর্যবেক্ষক (স্পেশাল অর্বাজভার) থাকবেন বলেও জানা গেছে।
সরেজমিন এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনে ১৭টি কেন্দ্রের মধ্যে স্থগিত হওয়া ২টি কেন্দ্রের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে পৌর মেয়রের ভাগ্য। এখানে নির্বাচন হওয়া ১৫টি কেন্দ্রের ভোটে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ছাত্রলীগ সভাপতি মশিউর রহমান সবুজ ১১৬০ ভোটে এগিয়ে আছেন। তিনি পেয়েছেন ৫৬৬১ ভোট। অপরদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র এনায়েত হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে ৪৫০১ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছেন। স্থগিত হওয়া কেন্দ্র দুটি তার এলাকায় হওয়ায় ভোটারদের হিসেবে অনুযায়ী মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এই দু’জনের মধ্যে।

৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগের রাতে কালকিনি পৌরসভার কাষ্ঠগর ও জোনারনন্দী এই দুটি কেন্দ্রে ঢুকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে জিম্মি করে ৮০১টি ও ৫০৩টি ব্যালটে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে রাখায় ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়। তবে ভোটাররা আশা করছেন এবার প্রশাসন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান সবুজ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে প্রচারণা শুরুর আগে ওসিকে প্রত্যাহার, ভোটের রাতে ব্যালটে জোর করে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে রাখা, পরে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যারা এসব ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবারও কারচুপির আশঙ্কা রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বর্তমান পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এনায়েত হোসেনের দাবি, কেউ যাতে ভোট কিনতে না পারে তাই সাধারণ ভোটাররা এসব প্রতিরোধ করেছে। এছাড়া ৩০ তারিখ নির্বাচনের আগের রাতে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে রাখার প্রসঙ্গে প্রিজাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে তিনি দোষারোপ করে বলেন, ‘তারাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন’।

/জেবি/টিএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
আদ দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ নাকি ত্রুটি সংশোধন, কী ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার
আদ দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ নাকি ত্রুটি সংশোধন, কী ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার
দায়িত্ব ছাড়া প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়া প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেফতার ২
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেফতার ২
কর্মকর্তাদের কলম বিরতির নির্দেশনা নেই: ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি
কর্মকর্তাদের কলম বিরতির নির্দেশনা নেই: ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী