বগুড়ার শিবগঞ্জের মাঝপাড়া গ্রামের মাদ্রাসাছাত্র স্বাধীন শেখ (৭) হত্যা রহস্য গত ছয় মাসেও উদঘাটিত হয়নি। আদালতের নির্দেশে সিআইডি তিন মাস ধরে তদন্ত করলেও কোনও অগ্রগতি নেই। এ ঘটনায় সোমবার বেলতলী হাফেজিয়া মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ (মুহতামিম) শহিদুল ইসলামকে (২৭) সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি বগুড়া ক্যাম্পের পরিদর্শক ফুয়াদ রুহানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, স্বাধীন শেখ বগুড়ার শিবগঞ্জ সদর ইউনিয়নের আমতলী মাঝপাড়া গ্রামের শাহ আলম শেখের ছেলে। সে স্থানীয় বেলতলী হাফেজিয়া মাদ্রাসায় মক্তব বিভাগে আবাসিক প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল। ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পড়ার সময় শিশুটি বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে মাদ্রাসা থেকে বের হয়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরদিন সকালে মাদ্রাসার পাশে গাংনই নদীর তীরে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনায় শিশুর বাবা শিবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
প্রথমে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে। পরে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তদন্ত করতে সিআইডি পুলিশ বগুড়া ক্যাম্পকে নির্দেশ দেন। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে স্বাধীনকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরিদর্শক ফুয়াদ রুহানী তিন মাস ধরে তদন্ত করছেন। পুলিশ আজও হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি। পরিদর্শক ফুয়াদ এ ঘটনায় নতুন করে হত্যা মামলা করতে নিহতের বাবাকে পরামর্শ দেন। এতে শাহ আলম হতাশ হয়ে পড়েন।
মঙ্গলবার দুপুরে তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক ফুয়াদ জানান, গত সোমবার মাদ্রাসার মুহতামিম বগুড়ার শেরপুরের বিনোদপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে শহিদুল ইসলামকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিগগিরই তাকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হবে।









