নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্প ১৯৬৪-৬৮ সালে যখন তৈরি করা হয়েছিল তখন অনেক উন্নত ছিল। কিন্তু এখন তা মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফতুল্লার লালপুর অভিশপ্ত এলাকা হয়ে গেছে। জায়গাটা নিচু এবং পানি বের হওয়ার রাস্তাগুলো উঁচু। এজন্য দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতায় আটকে থাকতে হচ্ছে মানুষকে।
রবিবার (৪ জুলাই) বিকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে এক সভায় এসব কথা বলেন শামীম ওসমান। এ সময় ডিএনডির অভ্যন্তরে বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শামীম ওসমান ডিএনডি ও ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমি ২০ দিন ছিলাম না। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলাম অসুস্থ শ্বশুরকে দেখতে। দেশে ফিরেই সভার আয়োজন করতে বলেছি। মূলত বিভিন্ন সরকারি দফতরের সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক স্থান থেকে পানি সরতে পারছে না।’
তিনি বলেন, ‘লিংক রোডের কাজের জন্য প্রায় আট কিলোমিটার রাস্তায় আমরা বালু ভরাট করছি। ওই আট কিলোমিটার রাস্তায় ডিএনডির খালগুলোর কোনও সংযোগ আছে কিনা আমরা তা জানি না। কুতুবপুরে ওয়াসার পাশে আমাদের একটা রাস্তা আছে। আগে সেই এলাকায় প্রতি বর্ষায় ওয়াসা দশটি করে অস্থায়ী পাম্প বসাতো। এখন ঢাকা সিটি করপোরেশন ওয়াসার দায়িত্ব নিয়েছে। ফলে সেই পাম্পটা এখন চলছে না। তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আশা করি তারা সেই পাম্পগুলো চালু করে দেবেন।’
সভার একপর্যায়ে শামীম ওসমান পানিরসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। তিনি প্রতিমন্ত্রীকে ডিএনডি প্রকল্পের চলমান উন্নয়ন সম্পর্কে জানান। এ সময় প্রতিমন্ত্রী যেসব খাল ও ক্যানেল পরিষ্কার করে খনন করা হয়েছে সেখানে ময়লা আর্বজনা ও পলিথিন ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ডিএনডির অভ্যন্তরে যে জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে তা সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। আগামী রবিবার তিনি নারায়ণগঞ্জের ডিএনডির প্রকল্প পরিদর্শন করেন বলে জানান।
ডিএনপি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্নেল আহসানউথ তাকবিম চৌধুরী বলেন, ‘ডিএনডির উন্নয়ন প্রকল্পের বাইরে হচ্ছে ফতুল্লার লালপডর, পৌষা পুকুর পাড় এলাকাটি। আমাদের প্রকল্পের বাইরে থাকার পরও আমার পাম্প মেশিন দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য সহায়তা করে আসছি।’ তিনি সভায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে লালুপুরের পানি কেন ডিএনডির ক্যানেলে নিয়ে আসা যাচ্ছে না তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য কী করা প্রয়োজন তা আগামী সভায় তুলে ধরবেন বলে জানান।
জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন– অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, এলজিইডি, সড়ক ও জনপথের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও জনপ্রতিনিধিরা।









