মাদ্রাসা ছাত্র হাফেজ মাসুদ নিহত হওয়ার ঘটনায় বুধবার সারাদেশে হরতাল ডেকেছে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। ১৮ ঘণ্টা ধরে উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া। মঙ্গলবার সকাল থেকে চলছে তাণ্ডব। ভাংচুর হয়েছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান।
মঙ্গলবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে দু’দফা হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও রেললাইনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ রয়েছে ঢাকার সঙ্গে সিলেট ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ।
সকালে হাফেজ মাসুদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পরার পরপরই মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। শত শত মাদ্রাসা শিক্ষক-ছাত্র হাতে লাঠি নিয়ে শহরের টি.এ রোড, কুমারশীল মোড়, লোকনাথ ট্যাঙ্কের পাড়সহ বেশ কয়েকটি স্থানে অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা সড়কের ওপর কয়েকটি তোরণ ভাংচুর করে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাটসহ বন্ধ হয়ে যায় শহরে যান চলাচল।
এদিন সকাল থেকেই শহরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল ১০টার পর মাদ্রাসা ছাত্ররা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে বঙ্গ সংস্কৃতি উৎসবের মঞ্চ, রেলওয়ে স্টেশন ভাঙচুর করে। রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ফিসপ্লেইট খুলে ফেলায় রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। শহরে বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তেমন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
এরইমধ্যে দুপুরে মাদ্রাসা ছাত্ররা স্থানীয় সংসদ সদস্যের কার্যালয়, সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুল, প্রশিকা কার্যালয়, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হক ভূঁইয়ার বাসভবন ও ব্যাংক এশিয়ার শাখা অফিস ভাংচুর করে।
দুপুর ১২টার দিকে বিক্ষুব্ধ মাদ্রাসা ছাত্ররা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনে ঢুকে এলোপাতাড়ি স্টেশনে হামলা চালাতে থাকে। এসময় স্টেশনের টিকেট বিক্রির জন্য ব্যবহৃত কম্পিউটার, সহকারী স্টেশন মাস্টার কক্ষের প্যানেল বোর্ড ও টেলিফোন, চেয়ার-টেবিল, আটটি সিসি ক্যামেরা, স্টেশন মাস্টারের কক্ষ, টিকিট কাউন্টার, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর বিশ্রামাগারসহ যাবতীয় সব কক্ষের আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম তছনছ ও ভাংচুর করে রেললাইনে ছুঁড়ে ফেলে আগুন লাগিয়ে দেয়।
স্টেশন কাউন্টারে থাকা কম্পিউটার, যাবতীয় টিকিট, প্লাটফর্মে থাকা যাত্রী আসন, বিশ্রামাগারে থাকা সোফা ও রেলের ট্রলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মাদ্রাসা ছাত্ররা কাজীপাড়ায় মাহমুদুল হক ভূঁইয়ার বাসার সামনে থাকা তিনটি মোটর সাইকেল ও প্রাইভেটকার ভাংচুর করে। এসময় মাদ্রাসা ছাত্রদের সঙ্গে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হক ভূঁইয়ার সমর্থকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ কয়েক রাউণ্ড টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে।
সোমবার সন্ধ্যায় শহরের জেলা পরিষদ মার্কেটের একটি দোকানে জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার এক ছাত্রের সঙ্গে মোবাইল কেনা নিয়ে বচসার জের ধরে মোবাইল ব্যবসায়ী-মাদ্রাসা ছাত্র ও ছাত্রলীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় মাসুদুর রহমান নামের ওই মাদ্রাসা ছাত্রটি গুরুতর আহত হন। মঙ্গলবার ভোরে তার মৃত্যু হলে ক্ষুব্ধ হয়ে সকালে রাস্তায় নেমে আসে তার সহপাঠীরা।
/জেবি/টিএন/
/আপ: আরএ/








