স্থায়ী চাকরির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দিনমজুররা। সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় প্রশাসন ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপাচার্য অফিসের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
জানা গেছে, বেলা ১২টায় রাসেল জোয়ারদার ও টিটুর নেতৃত্বে প্রায় ৩০-৩৫ জন দিনমজুর এ অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় তারা উপাচার্য অফিসের সামনে বসে অবস্থান নেন এবং উপাচার্য ড. আবদুস সালামের সঙ্গে দেখা করতে চান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি অবস্থানকারীদের কাছে শোরগোলের কারণ ও অবস্থান কর্মসূচির কারণ জানতে চান?
এরপর প্রক্টর তাদের সেখান থেকে সরে যেতে বলেন এবং তাদের দুজন প্রতিনিধিকে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাহিনীর কয়েকজন সদস্যের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
অস্থায়ী চাকরিজীবীদের পক্ষ থেকে দুজন নেতা উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর তারা প্রশাসন ভবনের সামনে এসে আবার শোরগোল শুরু করেন। তারা বলেন, ‘উপাচার্য বাইরে থেকে এসে আমাদের বলেন, আমরা কে? আমরা এই ক্যাম্পাসের কে সেটা দেখিয়ে দেবো। আমরা দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্ভিস দিয়ে আসছি। আমরা ছাত্র অবস্থায় ছাত্রলীগের কর্মী ছিলাম, আমাদের চাকরি কেন দেবে না? আওয়ামী লীগের আমলে আমাদের চাকরি না দিয়ে কীভাবে থাকে দেখে নেবো!’
এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেলা ২টায় ছেড়ে যাওয়া শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বাস এবং মেইন গেট অবরোধের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অস্থায়ী চাকরিজীবী পরিষদ ও আন্দোলনরতদের নেতা রাসেল জোয়ারদার বলেন, ‘আমাদের যৌবন ব্যয় করেছি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাজনীতি করায় মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। এখন চাকরি না পেলে আমরা সহজে ছাড় দেবো না।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি বিগত প্রশাসনের সময় থেকেই আমরা দেখে আসছি। আজকের ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। আমরা যাচাই-বাছাই করে, তারপর সার্কুলার দিলে যোগ্যতার ভিত্তিতে যতটুকু করা যায় করবো।’
বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আগামীতে যদি এরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তাহলে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য চাইবো এবং কঠোরভাবে এসব দমন করা হবে।’
এ বিষয়ে উপাচার্য ড. শেখ আবদুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডে লেবার মানে কী? বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে তাদের দৈনিক মজুরি দিয়ে ডেকে আনা হয়েছে। আমি তো চাইলেই তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামের বাইরে গিয়ে নিয়োগ দিতে পারি না। তারা ছাড়াও তো বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডহক ও থোকে অনেকে প্রায় বিশ থেকে পঁচিশ বছর কাজ করছেন। আমি তাদেরই চাকরি দিতে পারছি না। ইউজিসির পক্ষ থেকে আপাতত তাদের চাকরি দেওয়ার কোনও নির্দেশনা নেই। কাউকে চাকরি দিতে হলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বা একটা এজেন্সির মাধ্যমে দিতে হবে। আমরা যখন সার্কুলার দেবো তখন তাদের কথা বিবেচনায় রাখবো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলে অবশ্যই প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারীর সময়কালে দৈনিক মজুরিতে আন্দোলনরত ডে লেবাররা কাজের সুযোগ পান। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে থেকেই তারা স্থায়ী নিয়োগের জন্য আন্দোলন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন।









