বরগুনায় কবর জিয়ারতের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ

বরগুনা প্রতিনিধি
১৬ জানুয়ারি ২০১৬, ১৯:৩১আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৬, ১৯:৩৪

বরগুনায় কবর জিয়ারতের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ বরগুনার আমতলীতে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত ও পিকনিকের নামে চাঁদা তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৭শ’ শিক্ষকের উপর ১ হাজার টাকা করে ৭ লক্ষ টাকা চাঁদা ধার্য করেছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির আমতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান।
একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, টুঙ্গিপাড়া যাওয়ার জন্য জন প্রতি ১ হাজার টাকা করে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৭শ’ শিক্ষকের উপর এই চাঁদা ধার্য করা হয়েছে। যে শিক্ষক যেতে চাইবেনা তাকেও ১ হাজার টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে অন্যত্র বদলি করার হুমকি দেওয়া হয়। যারা যাবে না তাদের বিএনপি-জামায়াত হিসেবে তালিকা করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বদলি করার ভয়ভীতি দেখান জিল্লুর রহমান।

প্রত্যেক স্কুলের প্রধান শিক্ষককে তাদের স্কুলের অন্য শিক্ষকদের টাকা তুলে দেওয়ার জন্য বলা হয়। এ ছাড়াও শিক্ষকদের ছেলে মেয়েদের বয়স ১ বছরের বেশি হলে তাদেরকেও ১ হাজার টাকা চাঁদা দিতে বলা হয়।

শিক্ষক সমিতি কার্যালয়ে জরুরি সভায় জিল্লুর রহমান শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। এ সময় এর বিরোধিতা করলে শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম ও সাইফুন নাহারকে লাঞ্ছিত করা হয় এবং একই সঙ্গে তাদের সভা থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়। পরে সমিতির কার্যালয়ের বাতি বন্ধ করে জাহিদুল ইসলাম ও সাইফুন নাহারকে মারধর করা হয়। জিল্লুর রহমান স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা শিক্ষকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকারী শিক্ষক জানান, জিল্লুর রহমানকে সমাপনী পরীক্ষার দুর্নীতির জন্য শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছিল ভোলার মনপুরায়। সেখান থেকে তদবির করে পুনরায় আমতলী আসার পর থেকেই শিক্ষকদের উপর অন্যায় অত্যাচার চালাচ্ছেন এই শিক্ষক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির আমতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, টুঙ্গিপাড়া যাওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকদের নিজ নিজ স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা তুলে রাখতে বলা হয়েছে। যা টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার দুদিন আগে জমা দিতে বলা হয়েছে।

মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি কাউকে মারধর করিনি। আমার বিরোধী পক্ষ মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আ. মজিদ মিয়া বলেন, আমি শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

/আরএ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম